‘পুরুষ বিদ্বেষ নয়, নারীর চোখে পৃথিবীকে দেখা হলো নারীবাদ’

০৮ মার্চ ২০২০, ০১:৫০ PM

© টিডিসি ফটো

‘নারীবাদ মানে পুরুষ বিদ্বেষ নয়। নারীবাদ মানে নারীর ফিতা পায়ে দিয়ে হাটবার চেষ্টা করা, নারীর চোখে পৃথিবীকে দেখা। আজ রোববার (৮ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের আয়োজিত নারী সমাবেশে এ মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সাংগিঠনিক সম্পাদক তসলিমা আক্তার বিউটি, দফতর সম্পাদক তৌফিজা লিজা, অর্থ সম্পাদক নাইমা খালেদ মনিকা প্রমুখ।

সমাবেশে ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ‘কেন নারী পারে না? কারণ নারীর জন্য সমাজ সব রকমের কাটা, সব রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। এই প্রতিবন্ধকতা যখন আপনি বুঝেবেন না, নারীর টিকে থাকাও আপনি বুঝবেন না। আমাদের যেমন নারীবাদী নারী দরকার, তেমন নারীবাদী পুরুষ বন্ধুদেরও দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অচল যায়। সারা দেশে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কথা বলে। কিন্তু বাংলাদেশের সকল নারী তো সেই সুবিধা পাচ্ছে না। তারপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনার দুই মাসেও চার্জশিট পাই না।’

তিনি বলেন, ‘এখনো নারীর সমতা নিশ্চিত হয়নি। সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত হয়নি। নারীদের উপযুক্ত কর্মঘন্টা নির্ধারন হয়নি, শ্রমমূল্য নির্ধারন হয়নি। যতদিন এসব সমস্যা সমাধান হবেনা ততদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করতে হবে। নারীর অধিকার নিশ্চিত হলে, নারী পুরুষের সমতা অর্জিত হলে তখন আর নারী দিবস পালনের দরকার হবে না।’

সামিনা লুৎফা বলেন, ‘নারীরা সব থেকে বেশি ধর্ষণের শিকার হয় পরিবারে।’ তাহলে দেখা যায় নারীরা কোথাও নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সীমা দত্ত বলেন, ‘রাষ্ট্র একদিকে নারীর সমান অধিকারের কথা বলছে, অন্যদিকে নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আইনেও নারীর অধিকার খর্ব করার ফাঁদ পেতে রেখেছে। সমাবেশে তিনি নারীর কন্ঠ রোধে ফতুয়া প্রথা বন্ধ, ওয়াজ মাহফিলে নারীদের নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বন্ধ, পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সব জায়গায় নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে নানান দিকে নারী তার যোগ্যতার প্রমান দিচ্ছে, কিন্তু এ সমাজ তার মর্যাদা দিচ্ছে না। আমরা যখন আমাদের আইন দেখি, সেখানে বাল্যবিবাহ নিরোধের নামে, বাল্য বিবাহকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইন আছে, সেই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ দেখি না। ধর্ষণকারী নিরাপদে, নির্দ্ধিধায় সমাজে ঘুরে বেড়ায়। অথচ যে ধর্ষণের শিকার তাকে আত্মগোপন করে থাকতে হয়।’ আজও নারী তার অধিকার প্রতিষ্ঠিা করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এই নারী দিবসে বলতে চাই, এ সমাজ নারী-পুরুষের মিলেই। নারী কোনো পণ্য নয়, নারী কোনো বস্তু নয়, সে মানুষ। মানুষের মর্যাদা নিয়ে সে যেন সমাজে বাস করেতে পারে।’

‘নিষ্ক্রিয়’ স্ক্রিন টাইমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি, মস্তিষ্ক সক্রিয়…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কাল তিন উপজেলায় সাধারণ ছুটি
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কাল তিন উপজেলায় সাধারণ ছুটি
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দূর করবে রাসেলের ‘স্মার্ট ফুয়…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের নতুন ডিসি হলেন নোমান হোসেন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টি নামলেই কেন খিচুড়ি খেতে মন চায়?
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close