পাকিস্তান আমলের ৩ শাসকের ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাহারের দাবি

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৩৩ PM

© টিডিসি ফটো

পাকিস্তানের তিন শাসক খাজা নাজিমুদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা এবং মুহাম্মদ আইয়ুব খানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রত্যাহার আন্দোলন পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম হারুনার রশিদ, সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান নমিতা মন্ডল, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী এবং সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রমথ মিস্ত্রি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের আহবায়ক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন এবং অন্যতম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত মোট ৫২ জনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। যাদেরকে ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে ধরে নিতে হবে যে, তারা রাষ্ট্র ও সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু পাকিস্তান আমলের নয় জনের মধ্যে তিনজনকে ডিগ্রি প্রদান নিয়ে আমরা প্রশ্ন উত্থাপন করছি।

এমন তিনজন হলো- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন, পাকিস্তানের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা এবং পাকিস্তানের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আইয়ুব খান। তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের ৪৮ এবং ৫২-এর দুই পর্বে খাজা নাজিমুদ্দিনের ভূমিকা ছিল বাংলার বিরুদ্ধে এবং বাঙালি বিরোধী। যখন বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা, আদালতের ভাষা এবং শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব পেশ করা হয় তখনি আইনসভার সদস্যগণ কর্তৃক সমর্থনের পর তা গৃহীত হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার যে প্রস্তাব এবং চুক্তি হয়েছিল তা নাজিমুদ্দিন উত্থাপন করেননি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংগ্রাম পরিষদ এ ব্যাপারে তার কাছে কৈফিয়ত দাবি করলে তিনি বলেছিলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এভাবে তিনি বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বাঙ্গালীদের সাথে। অন্যদিকে ইস্কান্দার মির্জার ছিলেন অগণতান্ত্রিক, সংবিধানবিরোধী এবং স্বার্থনূকুল। তিনি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারকে বরখাস্ত করেন। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন। সামরিক আইন জারি করেন।

তিনি সংবিধান বাতিল করলেও সংবিধান তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধান বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো ক্ষমতা দেয়নি উল্লেখ করে আরো বলা হয়, আইয়ুব খান ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালিপ্সু। তিনি প্রথম বিডি মেম্বারদের মাধ্যমে হ্যা/না পদ্ধতির প্রয়োগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়াই ১৯৬০ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র আন্দোলন দমনে তিনি প্রথম এনএসএফ নামের পেটুয়া বাহিনী তৈরি করেন।

তিনি বলেন, তার দাম্ভিকতার পরিণতিতে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিহিংসার চরিতার্থ কল্পে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু সহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা করেন।

অধ্যাপক হারুনার রশিদ বলেন, এরকম তিনজন কুখ্যাত ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডিগ্রি প্রদান বাঙালি সংস্কৃতির চেতনার বিরুদ্ধে আঘাত। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অসম্মানজনক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আঘাত হানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক চেতনা রাখতে এই কলঙ্ক তিলক মুছে ফেলতে হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জনসচেতনতামূলক অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এছাড়াও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন এই আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী।

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাসফরে গেল এনএসইউ’র মার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন দুইদিনে ৭ হাজার ছাড়াল
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে, আবেদন ৩ সেপ্টেম্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী  
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
না ফেরার দেশে ঢাবি ছাত্র হাবিবুর রহমান শুভ
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬