কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মজনু মিয়া। ৩০ বছর বয়সী এ যুবক একজন সিরিয়াল রেপিস্ট বলে উল্লেখ করেছে র্যাব। র্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম জানান, ধর্ষককে গ্রেফতারের পর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার ছবি ওই ছাত্রীকে কিছুক্ষণ পর পর কয়েকবার দেখানো হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ছবির লোকই ধর্ষক কিনা। ছবি দেখে প্রতিবারই ওই ছাত্রী বলেছেন, ‘এই লোকই ধর্ষক’।
এদিকে ধর্ষক মজনুর বিচার চান কিন্তু কোনো ধরনের ক্রসফায়ার চান না ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীর পাশে থাকা একজন স্বজন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, মেয়েটির স্পষ্ট কথা, সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে সে, আরেকটা অন্যায়কে ন্যায্যতা দিতে নয়। কোনো ক্রসফায়ার নয়, কোনো মধ্যযুগীয় বর্বরতাও নয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন জানান, মেয়েটি বলেছে ধর্ষক তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল— এমন কাজ সে আগেও বহুবার করেছে। বহু মেয়েকে রেপ করেছে। হত্যাও করেছে।
মেয়েটির স্বজন বলেন, প্রশ্ন জাগে, এতদিন তাহলে কীভাবে নির্বিঘ্নে ওই রকম একটি এলাকায় চলাচল করেছে সে? কীভাবে বাস থেকে নামার পরে মেয়েটিকে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে, গলা টিপে ধরে অজ্ঞান করে ফেলেছে সে? জ্ঞান ফেরার পর আবার মেয়েটির গলা চেপে ধরা, পেটে ও বুকে লাথির পর লাথি মারার সাহস কারা দিয়েছে তাকে বলতে পারেন?
এরপর তিনি আরও কিছু কথা বলেছেন। সেটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো- “মেয়েটির কথা মনে রাখবেন। মেয়েটি বোকা নয়। সে বোঝে কাদের ব্যর্থতায়, লজ্জাহীনতায় রাত থেকে দিন বিচার চেয়ে মিছিল করে, আন্দোলন করে একজন “পেশাদার” ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করাতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষার্থীরা।
আর আপনারা যারা বয়ফ্রেন্ড খুঁজছিলেন, স্বেচ্ছায় ঝোপে যাওয়া খুঁজছিলেন, সারোয়ার বিন কাশেম জানান, ধর্ষককে গ্রেফতারের পর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার ছবি ওই ছাত্রীকে কিছুক্ষণ পর পর কয়েকবার দেখানো হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ছবির লোকই ধর্ষক কিনা। ছবি দেখে প্রতিবারই ওই ছাত্রী বলেছেন, ‘এই লোকই ধর্ষক’। পরনে কী ছিল জানতে চাচ্ছিলেন, বারবার ঘটনাটিকে অন্যদিকে নিতে চাচ্ছিলেন— আপনাদের কথাও কিন্তু আমরা ভুলি নাই। মেয়েটি ভোলে নাই।
আপনাদের কারোরই ক্রসফায়ার চাই না আমরা। ধর্ষকেরও ক্রসফায়ার চাই না। ন্যায়বিচারের জন্য লড়েছে মেয়েটি। অন্যায় রুখে দাঁড়ানোর জন্য লড়েছে। আপনারাও লড়তে শিখুন। এ বিভীষিকাময় পরিবেশের জন্য কারা দায়ী মেয়েটা বোঝে। আপনারাও বুঝতে শিখুন।”