ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের গলায় লাগানো হয়েছে মোটা তারের ফাঁস, পোস্টারে ঢেকে গেছে গোটা ভাস্কর্য। মাস জুড়ে ভাস্কর্যের এমন অবমাননা শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এরই মধ্যে আবার পাদদেশে বসানো হচ্ছে বড় পিলার। এর ভাস্কর্যের সাথেই করা হচ্ছে বিশাল গর্ত।
সম্প্রতি সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের এমন বেহাল দশায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উত্তাল গোটা ক্যাম্পাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের প্রতীমাগুলোর মধ্যে একজনের গলায় তারের ফাঁস পরানো হয়েছে। ব্যানার-পোস্টার লাগনোর এ তার কোনো প্রতীমার হাতে বাধা হয়েছে, কারো নাকের মাঝামাঝি লাগানো আছে তার। অন্য দিকে ভাস্কর্যের মূল বেদীর একটা অংশ ঢেকে দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক বড় বড় ব্যানারে। যার কোনোটাই বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টও না।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিয় অরুণিমা তাহসিন নামে একজন লিখেন, “সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্বর্যকে সময়োপযোগী রূ দেয়ার জন্য রাষ্ট্রকে সাধুবাদ।”
মো. ওমর সানী লিখেছেন, “ছবি কথা কয়....(স্বাধীনতার গলায় কারা দড়ি পরায়?? )”
জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতাবার্ষিকীর কাউন্ট-ডাউন ওয়াচ বসানোর জন্য ভাস্কর্যের পাশ ঘেঁষে ২০-২৫ গর্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আর রাজুকে মুখোমুখি করে দিয়ে একটা পক্ষ বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চায় বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের।
এ অবস্থায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যকে পোস্টার-ব্যানার মুক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ভাস্কর্যের চারপাশ ঘিরে লাগানো ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১ দিনের মধ্যে গর্ত ভরাট করার আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিবাদের স্মারক এ ভাস্কর্যকে ধ্বংস করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় একটা দুরভিসন্ধি কাজ করছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়টি ছাত্র ইউনিয়েনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শুধু ব্যানার-পোস্টারই নয় বরং ভাস্কর্যেরে পাদদেশেই করা হয়েছে বিশাল গর্ত। অনেক উঁচু করে বঙ্গবন্ধর জন্মশত বার্ষিকীর ‘কাউন্ট-ডাউন ওয়াচ’ দেয়ার জন্য। কিন্তু আগে যেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ছিলো সেখানে রাখতো পারতো। সেটা না করে বঙ্গবন্ধু ও রাজু ভাস্কর্যকে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে আনা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত এগুলো করা হচ্ছে। ভাস্কর্যের পাশে এগুলো কাম্য নয়, সেটিকে ঢেকে দিবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী চেতনা-আন্দোলনকে কোনঠাঁসা করতে মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে একদিনের সময় দিয়েছি এর মধ্যে তারা যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নেয় তবে কালকেই (শনিবার) আমরা গর্ত ভরাট করে দিব।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ১৩ই মার্চ গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নেতৃত্বদানকারী মঈন হোসেন রাজু নিহত হন। রাজুসহ সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত হয় রাজুস্মৃতি ভাস্কর্য। ১৯৯৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এ. কে. আজাদ চৌধুরী উদ্বোধন করেন। তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা রাজুর গ্রামের বাড়ি ছিলো বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জে।