হলের আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হল সংসদ ও হল প্রশাসনের সফলতা-ব্যর্থতাগুলো জানতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে স্যার এ এফ রহমান হল সংসদ। এসময় শিক্ষার্থীরা হল এবং তাদের নানা সমস্যার কথা সরাসরি হল প্রশাসন ও হল সংসদের নিকট তুলে ধরেন। সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান ও আগামী ৪ আগস্ট সমস্যাগুলো নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কথা জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম সাইফুল ইসলাম খান।
গতকাল মঙ্গলবার স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে মতবিনিময় সভা। সভায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান ও হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে হল সংসদের ভিপি আব্দুল আলীম খান, জিএস আব্দুর রহিম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার, পাঠকক্ষ বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল, সমাজসেবা সম্পাদক তানজিন আল আমিন, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান তালাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি হলের কর্মকর্তা, কর্মচারী, দোকান, ক্যান্টিনের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসন ও হল সংসদের নিকট যে সকল সমস্যা ও সমাধানের দাবি করেন তন্মেধ্যে কিছু হলো-গণরুম বন্ধ করা নতুবা গণরুম সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৩০-৪০ জন করে এক রুমে থাকার হাত থেকে মুক্তি দেয়া, যারা অবৈধভাবে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করেও হলে থাকছেন তাদের কে হল থেকে নামানোর ব্যবস্থা করা, সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করা, ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকা সত্ত্বেও যারা এখনো হলে সিট দখল করে থাকছেন তাদের আইনের আওতায় আনা, গণরুমে ছারপোকা-মশা সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবক-পরিষ্কার পরিচ্ছনতার কাজে যেসকল কর্মচারীরা নিযুক্ত তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করা, হলে এ্যালামনাই এসোশিয়েশন চালু করা, ক্যান্টিন এবং খাবারের মান ভালো না থাকা, ওয়াইফাই এর কোনো স্পিড না থাকা, মসজিদের ভিতরে পানি পড়া, মসজিদে শিক্ষার্থীদের এবং বহিরাগতদের ঘুমানো, ইমামের অসুস্থতার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতে না পারা তাই তাকে অপসারণ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা করা, পাঠকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকা, পাঠকক্ষে শীততাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র স্থাপন করা, স্যার এ এফ রহমান হল ও হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের মধ্যে যে দেয়ালটি আছে তা ভেঙে ফেলার দাবিসহ অন্যান্য।
এসময় শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও দাবিগুলো উত্থাপনের পর হল প্রাধ্যক্ষ এগুলো ধীরে ধীরে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন এবং আগামী ৪ আগস্ট হল মিটিংয়ে এগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন বলে জানান। যাতে কেউ পরবর্তীতে বলতে না পারে যে পূর্বের সমস্যা সমাধান হয়নি সেজন্য তিনি জানান, ‘আগামী মতবিনিময় সভা শুরুর প্রথমেই এই প্রতিবেদনটি পাঠের মাধ্যমে শুরু হবে।
প্রাধ্যক্ষ আরো বলেন,‘শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিকেল ৫-৭ টা পর্যন্ত কাউন্সিলিং করবো।’ এজন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের নাম হল অফিসে জমা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।