ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন চলছে। যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করতে সকাল ৮টা শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই আসছে নানা ধরণের অনিয়মের অভিযোগ। প্রার্থীরা বলছেন, কোনো কেন্দ্রেই সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। বাকি সময়গুলোতেও হবে না। সুতরাং বাতিল করার শ্রেয়। ইতোমধ্যেই নির্বাচনকে ‘পাতানো’ দাবি করেছে ছাত্রদল। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বলছেন, সব হলেই অনিয়ম চলছে, সুষ্ঠু ভোটের কোনা সম্ভাবনা নেই। বাকি প্রার্থীরাও নানা ধরণের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
জানতে চাইলে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ‘সবখানেই অনিয়ম হচ্ছে। মুহসীন হলে গিয়ে দেখি কোন লাইন ছাড়াই ডাকসুর ভোটগ্রহণ চলছে। এর প্রতিবাদ জানাই এবং প্রভোস্টের সাথে দেখা করি। সেখান থেকে বের হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদেরকে ধাওয়া দেয়। পরে আমরা প্রভোস্টের সহায়তায় হল থেকে বেরিয়ে আসি।’ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
ছাত্রদল ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সবকিছু কন্ট্রোল করছে ছাত্রলীগ। আমাদের প্রার্থীদের ভিতরে ঢুকতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হলগুলোতে কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করে সময় ক্ষেপন করছে ছাত্রলীগ; যাতে হলের বাইরের ভোটাররা ভোট দিতে না পারেন। সুতরাং ভোট বাতিল করাই শ্রেয়। আজকের নির্বাচনকে একটি পাতানো নির্বাচন বলে অভিহিত করেন তিনি।
ডাকসুর আরেক ভিপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘বেশ কয়েকটি হলে বিশেষ করে ছাত্রীদের হলে ডাকসু নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে ভরা হয়েছে। এসবই প্রমাণ করে ভোট কেমন হচ্ছে? ছাত্রীদের হলে ভোট গ্রহণ বাতিল করে পুনরায় একাডেমিক ভবনে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
ভোট দিতে ছাত্রলীগের সময়ক্ষেপনের একই অভিযোগ আসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী প্যানেলের পক্ষ থেকে। ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা আগেই বুজেছিলাম, দলকানা প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তারপরও আমরা এসেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে। কিন্তু সেই সম্মান তারা রাখলো না।’ তিনি আরো বলেন, যেভাবে অনিয়ম হচ্ছে, সে হিসেবে সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না। শিঘ্রই এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ছেলেদের হলগুলোতে এমন বিশৃঙ্খলা অবস্থায় রাখা হয়েছে যে, কে ভোট দিয়েছে বা কে দেয়নি তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। সকালে রোকেয়া হলে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। এর পর শহীদুল্লাহ হল, এসএম হলে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা দেখেছি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে যেসব গেস্টরুম, হলরুম রয়েছে, সেখানে তাদের অপরিচিত মুখকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এসব গণরুম, গেস্টরুমে যারা থাকেন, তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের জিএস মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ‘ঢাবির ঐতিহ্য আর থাকলো না।
কোটা সংস্কারকারীদের প্যানেলে সমাজসেবা প্রার্থী আখতার হোসেন, ‘সবখানেই ভোট চুরির মহড়া চলছে। যদি এটা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে; তবে এর বিরুদ্ধে অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। যার সাথে দেশের প্রত্যকটি ছাত্র সমাজ থাকবে।