ডাকসু নির্বাচন

কাউকে বাধা দিয়ে গণতন্ত্রকে অপমান করতে চাই না: সাদ্দাম

০৩ মার্চ ২০১৯, ১১:০১ PM
সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেন © টিডিসি ফটো

প্রায় ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। রবিবার নির্বাচনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হবে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্যানেলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনী ইশতেহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরেছেন ইরফান হক—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ মনোনীত জিএস প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আনন্দ-উদ্দীপনা রয়েছে। তারা নির্বাচিত নেতৃত্ব বেছে নেবে। তারা এমন ধরণের ছাত্র প্রতিনিধি পাবে যারা ছাত্রদের কাছে জবাবদিহি করতে পারবে। তারা স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায়। কিন্তু ছাত্র সংগঠনগুলো মূল দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিরোধিতা করেছে। এটি এমন একটি সুযোগ এসেছে যে ছাত্ররাজনীতির নবায়িত হবে। স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যা চায়, আমরা সেই নবযাত্রায় উঠছি। আগামীতে যে নির্বাচিত হবে তাতে সেই নির্বাচনে ঢাবির সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর বিজয় নিশ্চিত হবে।

সকল শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি যে, যত প্যানেল সংখ্যা বেড়ে যাবে, যত প্রার্থী আসবে তত রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে প্রার্থীরা ভোটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিবে। আমরা কাউকে বাধা দিয়ে গণতন্ত্রকে অপমান করতে চাই না।

আমাদের যে প্যানেলটি রয়েছে তা ঢাবির সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ইনক্লুসিভ প্যানেল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রয়েছে। এটি একটি মেধাভিত্তিক এবং সৃজনশীল। এই প্যানেল ঢাবির সকল শিক্ষার্থীকে সংযুক্ত করতে পেরেছে। এই প্যানেলে সাতজন নারী শিক্ষার্থী রয়েছে। আমাদের বামদের যে প্যানেল রয়েছে সেখানে একজনের বেশি নারী শিক্ষার্থীকে যুক্ত করতে পারেনি। ছাত্রদলের প্যানেলে একজন নারী নেই। আমাদের প্যানেলের সমর্থিতদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি প্রেম রয়েছে, বুকের মধ্যে ভালবাসা রয়েছে বলেই আজকে আমরা মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি। এছাড়া আমাদের প্যানেলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ইশতেহারটি সবার সামনে নিয়ে আসছি তা একটি ব্যতিক্রমী। শিক্ষার্থীরা যে সমস্যার মধ্যে দিনাতিপাত করে, তারা যে সমস্যার মধ্যে থাকে, আমাদের আধুনিক কর্মসংস্থানের দরকার সে ধরণের একটি ইশতেহার আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার দিচ্ছি। শতবর্ষ উদযাপনের জন্য যে মাস্টার প্লান দরকার তা আমরা করছি।

আমাদের কর্মকাণ্ড এমন নয় যে নির্বাচন কেন্দ্রিক। আমরা চাই একটি স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ। ডাকসুর বিজয়ী নেতৃত্বের মধ্যে একটি স্বপ্নের ঢাবি নির্মাণের পদযাত্রা শুরু করব। আমরা যেটা বলেছি- ঢাবিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে। গণরুমের সিট সংকটের মধ্যে দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক মান উন্নত হবে, গণরুমে ৪০ জনের মতো শিক্ষার্থী থাকবে আমরা কেন আশা করব ঢাবি ৫০০ র‌্যাংকিং এ থাকব। আমরা মনে করি এটি একটি স্ববিরোধী। ঢাবির আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে।

এজন্য আমরা যে গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই সেখানে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে বছরে সুনির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এক বছর নির্বাচন করে ঢাবি অহংবোধে আত্মতৃপ্ত থাকবে এটি আমরা চাইনা। আমরা প্রত্যেক বছর ডাকসু নির্বাচন করতে হবে এটা চাই। রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ঢাবির একটি ভয়, আতঙ্কের নামে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই ঢাবির সমস্ত কাজ ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আসুক। আমরা আরেকটি বিষয় চাই যে ঢাবি বাণিজ্যিক বিশ্ববিদ্যালয় চাইনা। এজন্য সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ করতে হবে।

আমরা লাইব্রেরী সংস্কারের বিষয়টি নিয়েও দাবি জানিয়েছি। আমাদের ক্যাম্পাসটি কখনো কখনো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিণত হয়। তাই এখানে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখানে জরুরী গাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেসব গাড়ি ব্যবহৃত হয় তার বাইরে কোন গাড়ি ব্যবহার যেন ব্যবহার না হয় তার দাবি জানাই। আমরা মনে করি, ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। সেই সংগঠনের জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে আমরা জয়ী হব। আমি ঢাবির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাবির সকল ছাত্রদের কাছে সংগঠনের জন্য ভোট চাইব। যে প্যানেলটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিরাপত্তা দিবে।

ট্যাগ: ডাকসু
সাতক্ষীরা সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৫ মিনিট বিরতি দিয়ে টানা ৭ ঘণ্টা পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ, দেখুন এখানে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চাকরিতে প্রবেশের বয়স কমানোর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বিসিএস চাকরির ইনসেনটিভ কমানোর পরামর্শ ড. জাহেদের
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বিসিবির হয়ে বিসিসিআইকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চিঠি পাঠানোর অভ…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬