অমর একুশে হলে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছনার শিকার মোসাদ্দেক রহমান সৌরভ, জসীম খান, সাব্বীর হোসাইন ও মনজুরুল আলম রিয়াদ © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ভিপি, জিএস এজিএস ও সদস্য সচিব প্রার্থীদেরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে অমর একুশে হলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
হল সংসদের প্রার্থীরা হলে গেলে তাদের মারধর করার পর হল থেকে বের করে দেয়া হয় বলে জানায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভোটের আগে নিজেদের ভোট বাড়ানোর জন্য এ ধরনের অভিযোগের খেলা খেলছে ছাত্রদল।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক রহমান সৌরভ, জিএস পদপ্রার্থী জসীম খান, এজিএস সাব্বীর হোসাইন ও সদস্য সচিব মনজুরুল আলম রিয়াদ হল প্রাধ্যক্ষের সাথে দেখা করতে যান। এসময় প্রাধ্যক্ষ হলে ছিলেন না। পরে তারা হল ক্যান্টিনে খেতে গেলে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শুভ’র নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
একুশে হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক রহমান সৌরভ বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে হল প্রাধ্যক্ষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলাম। এসময় প্রাধ্যক্ষকে অফিসে না পাওয়ায় হলের হাউজ টিউটর আখতার স্যারের সাথে দেখা করি। আমরা আখতার স্যারকে বলেছি, আমরা হলে দুপুরের খাবার খেতে ইচ্ছুক। স্যার আমাদের বললেন, তোমাদের কিছু হবে না, তোমরা নির্ভয়ে হলে খেতে যাও।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ক্যান্টিনে খেতে যাই, তখন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শুভর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাদের গায়ে হাত তোলে। আমাদের অপমান করে বের করে দেয়।’
এ ব্যাপারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অমর একুশে হল শাখা ছাত্রদলের ভিপি, জিএস, এজিএস ও সদস্য সচিব প্রার্থী হলে খাবার খেতে গেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। কামরুজ্জামান শুভ পদার্থ বিজ্ঞানের অছাত্র, তার ছাত্রত্ব নেই। সে ২০১২-২০১৩ সেশনের শিক্ষার্থী।’ এসময় তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মিথ্যা মেগাসিরিয়াল নির্মাণ করে ভোটের আগে নিজেদের ভোট বাড়ানোর জন্য এ ধরনের অভিযোগের সংস্কৃতির খেলা খেলছে ছাত্রদল। এই সিমপ্যাথি কার্ড দিয়ে খেলে আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা যাবে না। দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তাদেরকে সুস্থ, সহনশীল রাজনীতি করার জন্য আহবান জানান তিনি।