© ফাইল ফটো
কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগে অনুষ্ঠিত একটি কোর্সের পরীক্ষা দিতে না পারায় প্রতি শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে। গত ২০ নভেম্বর ডিনস কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকেই এ মোটা অংকের জরিমানা দিতে না পারায় হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
গত ১৪ মে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি’ (কোর্স নম্বর ৪০১) নামক কোর্সটির পরীক্ষা ছিল। কিন্তু কোটা সংস্কারের আন্দোলনের কারণে ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ওই পরীক্ষা দিতে পারেনি। ফলে ওই কোর্সে সবাইকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী- এখন সবাইকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু গত ২০ নভেম্বর ডিনস কমিটির সভায় ৬১জন শিক্ষার্থীর সবাইকে জানানো হয়- পরীক্ষা দিতে হলে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সবার কাছে বারবার ধরনা দিলেও তাদের জরিমানা মওকুফ হয়নি। কিন্তু সেই জরিমানা দিতে না পারার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েই প্রক্টরকে চিঠি দিয়েছেন এক ছেলে।
‘আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে’ এমন কথা জানিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা লিখেছে, ‘আমি সোহেল রানা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সপ্তম সেমিস্টারে ৪০১ নম্বর কোর্সের জন্য ডিনস-কমিটি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকের রোগী। যার ওপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। তাঁর পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই পরীক্ষা দিলেও আমি টাকার অভাবে পরীক্ষা না দিতে পারায় হতাশায় ভুগছি। হতাশা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।’
চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ওই ছাত্রের এগুলো মিডিয়া প্রচার করছে। এটা কোন ধরনের কাজ? এটা এক ধরনের অপরাধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ প্রক্টরের এমন বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ টাইমলাইনে প্রক্টরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য পোস্ট করেন। অবশ্যই পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন প্রক্টর।
এদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায়ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ জরিমানা আরোপ করা হয় বলে মনে করছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, সোহেলের সমস্যা আদৌ কতটা গভীর, আমি জানি না। তবে এটুকু বুঝি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার সামর্থ্য নেই অনেক শিক্ষার্থীর। এখন কেউ যদি তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এভাবে করুণ আর্তি জানিয়ে চিঠি লিখে তাহলে তো কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। কিন্তু তার আগেই 'এটা এক ধরনের অপরাধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলাটা কতটা যৌক্তিক?
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন আল হাসান বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা বা জরিমানা করা হয় কিভাবে? ৬১ জনের প্রত্যেকে পাঁচ হাজার করে দিলে মোট দাঁড়ায় তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা? এত টাকা লাগবে কিসে? সবচেয়ে বড় কথা যে আন্দোলন নিয়ে এতকিছু, তার তো সুরাহা হয়ে গেছে। তাহলে তার জের কেন এভাবে শিক্ষার্থীদের টানতে হবে? কী জবাব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?