ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীদের উপর নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত ফি চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের বিরুদ্ধে। বিভাগীয় উন্নয়ন ফি’র নাম দিয়ে নিয়মবহির্ভূত এ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, এ বছর বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগের একাডেমিক কমিটি। বিশেষ করে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফা আল মামুনের একক সিদ্ধান্তের কারণে একাডেমিক কমিটি এ সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের একাংশের।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের নোটিশে বলা হয়, বিভাগীয় সিএন্ডডি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজে এবং ছাত্রকল্যাণ খাতে ফি বাবদ চার হাজার টাকা জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিভাগের অনেক শিক্ষক এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন না। কিন্তু বিভাগীয় চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারমূলক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে। নিয়ম করা হয়েছে- সেমিস্টার শেষে নম্বরপত্র উত্তোলনের সময় বাধ্যতামূলকভাবে এই ফি দিতে হবে। অন্যথায় নম্বরপত্র প্রদান করা হবে না।
এদিকে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার জন্য চেয়ারম্যান বরাবর একাধিকবার আবেদন করলেও কার্যকর কোন ফল লাভ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে- শিক্ষার্থীদের অনেক যৌক্তিক দাবিও চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তের কারণে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। ফলে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৬ই নভেম্বর বিভাগটি ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান থেকে তড়িৎ ও ইনেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগে রূপান্তরিত হয়। সেই থেকে বিভাগের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট থেকে বড় অংকের বরাদ্দ আসতে শুরু করে। এছাড়াও প্রতি বছর বেশ কিছু দাতা সংস্থা থেকে বিভাগে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এসে থাকে। ইউজিসি এবং হায়ার এজুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রোজেক্টের অর্থায়নে গত তিন বছরে বিভাগে অত্যাধুনিক ফেব্রিকেশন, হাই ভোল্টেজ পাওয়ার এবং মাইক্রোওয়েভ কমিনিকেশন ল্যবরেটরী স্থাপিত হয়েছে। এছড়া ইমদাদ সিতারা ফাউন্ডেশন, হা-মীম গ্রুপ, টেকভায়লীসহ বিভিন্ন সংস্থা বিভাগের উন্নয়ন কাজে আর্থিক সহোযোগীতা করে থাকে।
ইইই হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিভাগে ইয়ার ভিত্তিক একাডেমিক কার্যক্রমের বদলে সেমিস্টার ভিত্তিক কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেমিস্টার ভিত্তিক শিক্ষাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী যে সকল সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না তারা। এ ব্যাপারেও শিক্ষার্থীদের কোনো আবেদনই কাজে আসছে না অভিযোগ তাদের।