‘পার্টিশন পলিটিক্স: ইম্প্যাক্টস অন সোসাইটি, ইকোনোমি, কালচার অ্যান্ড ইন্দো-বাংলা রিলেশনস’ শীর্ষক তিনদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে তা আগে কখনো ছিলো না। তাই দুই দেশের মধ্যে যে ইস্যুগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে তার সমাধান করা উচিত।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘পার্টিশন পলিটিক্স: ইম্প্যাক্টস অন সোসাইটি, ইকোনোমি, কালচার অ্যান্ড ইন্দো-বাংলা রিলেশনস (১৯৪৭-২০১৮)’ শীর্ষক তিনদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস) এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র ও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভ (আরডিসি)।
এ সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয় কেউ যখন আমাকে প্রশ্ন করে তখন আমি বলি, বাংলাদেশ ও ভারতের সভ্যতা প্রায় একই, নদী আমাদের একই সূত্রে গেঁথে রেখেছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে ৫৩টি অভিন্ন নদী আছে। অর্থাৎ আমরা বিভিন্নভাবে একসঙ্গে যুক্ত। এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশেরই জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, লালন ফকির সকলেই দুই দেশে সমান জনপ্রিয়। তাদের অবদানে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সমৃদ্ধ হয়েছে।
এসময় তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূমি সমস্যার সমাধান ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। এখনো সীমান্তে মৃত্যুসহ আরো বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে, যা আমাদের সমাধান করা উচিত। বিশেষত তিস্তা পানি বন্টন চুক্তির বিষয়ে একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই ভারতের প্রতিবেশি রাষ্ট্র সেহেতু এই শরনার্থী সমস্যা দুরীকরণে ভারত উভয় দেশকেই সঠিক পথ দেখাবে। এসময়ে তিনি মিয়ানমার সরকারকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহবান জানান।
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, আমরা অনেক দেশের সাথেই অনেক বিষয়ে চুক্তি করি। তবে ভারতের সাথে চুক্তি করতে স্বাচ্ছ্বন্দ বোধ করি। কেননা আমরা একে অপরকে বুঝতে পারি।
তিনি বলেন, দেশ ভাগের আগে আমরা একত্রে ছিলাম। এমনকি ১৯৬৫ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ ভিসা ছাড়াই ভারতে যেতে পারতো। কিন্তু ৬৫-এ যুদ্ধের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এটি আবার ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। কেননা, প্রতিবেশী দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক না রেখে চলা যায় না। অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে তা বোঝা যায়। ভারতের সাথে আমাদের সকল ধরণের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন।
জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ও রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভ (আরডিসি) এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমীর পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খান, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন (কলেজ) অধ্যাপক ড. কূলবীর সিং ঢিলন, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুচেতা মহাজন প্রমূখ।
তিনদিন ব্যাপী সম্মেলনের শেষদিন তিনটি সেশনে মোট পাঁচটি ‘থিম পেপার’ উপস্থাপন করা হয়। পরে সমাপনী অধিবেশন শেষে অতিথিদের ‘ক্রেস্ট’ ও অংশগ্রহণকারীদের ‘সার্টিফিকেট’ প্রদান করা হয়।