কলেজছাত্রী দীপ্তির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত, বন্দিশালায় নয়: অ্যামনেস্টি

কলেজছাত্রী দীপ্তির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত, বন্দিশালায় নয়: অ্যামনেস্টি
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল  © সংগৃহীত

ফেসবুকের এক পোস্টে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় সংশোধন কেন্দ্রে আটকে রাখা কলেজছাত্রী দীপ্তি রানী দাসকে (১৭) মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দীপ্তির মুক্তির বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে গতকাল বুধবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এই আহ্বান জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি। এ-সংক্রান্ত বিবৃতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য দীপ্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এক বছরের বেশি সময় ধরে সে একটি সংশোধন কেন্দ্রে আটক রয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দীপ্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, দীপ্তিকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন সে কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিল। তখন থেকে তার পড়াশোনা বন্ধ। যেসব অভিযোগ দীপ্তির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তাতে তার হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীপ্তির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকার কথা, বন্দিশালায় নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার চর্চা করার জন্য দীপ্তিসহ যারা আটক অবস্থায় রয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

দীপ্তি, তার পরিবার ও বাংলাদেশের অন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে অ্যামনেস্টি। সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও বলেছে সংগঠনটি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুসারে এই আইন সংশোধন করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।


মন্তব্য

x