কলেজের টাকা আত্মসাত: চাকরি হারাচ্ছেন ‘অবৈধ’ অধ্যক্ষ

কলেজের টাকা আত্মসাত: চাকরি হারাচ্ছেন ‘অবৈধ’ অধ্যক্ষ
ঢাকা পাবলিক কলেজ  © সংগৃহীত

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও কলেজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন রাজধানীর পান্থপথের ঢাকা পাবলিক কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হক। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে। অবৈধভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও স্থাগিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করানোর অপচেষ্টার অভিযোগেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পর্যালোচনা করে তার বরখাস্ত অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা বোর্ডের আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটি। তাই, তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড। 

বুধবার (৯ জুন) ঢাকা বোর্ড থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হককে চাকরি থেকে অব্যহতি দেয়ার নির্দেশ নিয়ে ঢাকা পাবলিক কলেজের গভনিং বডিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বোর্ড বলছে, তার বিরুদ্ধে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রবিধানমালা লঙ্ঘণ করে গভর্নিং বডি গঠনে জালিয়াতি করা, কলেজের সব আয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনা না করা, এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বিতরণে অনিয়মের আশ্রয় নেয়া, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন খাত থেকে কলেজের আয় আত্মসাৎ করা, আয়-ব্যয়ের হিসাব বর্তমান প্রশাসনকে বুঝিয়ে না দেয়া, কলেজের বাস্তব আয়ের বিষয়ে অডিট রিপোর্টে তথ্য গোপন, অসঙ্গতিপূর্ণ অডিট রিপোর্ট উপস্থাপন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির সভা অস্বীকার, কলেজের ভাড়া দেওয়ার নামে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে হয়রানি করা, কলেজের বাড়িভাড়া বকেয়া রাখা, কলেজের নামে দেয়া শিক্ষকদের চেক জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ করা এবং শিক্ষকদের হয়রানি করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘হিযবুত তাহরীর সদস্য’ বানিয়ে চাকরিচ্যুত করা, বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও বেতন-ভাতা স্থগিত করা এবং এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করা, উদ্দেশ্যমূলকভাবে এক জন ছাত্রকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বোর্ড আরও জানিয়েছে, সভাপতি মনোনীত না করেই স্থানীয় সাংসদ এম এম আবুল কালাম আজাদের নামাঙ্কিত চেয়ারম্যান হিসেবে সিল মোহর ব্যবহার করা এবং অবৈধভাবে তার স্বাক্ষরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করার অভিযোগেরও প্রমাণ মিলেছে।

বোর্ড থেকে কলেজের গভর্নিং বডির কাছে পাঠানো চিঠিতে বোর্ড আরও বলেছে, ঢাকা পাবলিক কলেজর সহকারী অধ্যাপক মো. মমিনুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভায় উপস্থাপিত হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কলেজ গভর্ণিং বডি কর্তৃক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। একইসাথে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠিতে বোর্ড বলেছে কলেজের সভাপতিকে। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডকে জানাতে বলা হয়েছে।  

এদিকে বোর্ড থেকে পাঠানো অপর এক চিঠিতে কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কলেজের সভাপতিকে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ