পুলিশের হাতে আটক শিউলী মল্লিকা ও গৃহকর্মীর কাজ করা ছোট্ট শিশু মিনতি
সিরাজগঞ্জে শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক শিউলী মল্লিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের ফজলখান রোড ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকার অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করা ছোট্ট শিশু মিনতি। তার শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলে সে পুলিশকে এসব কথা জানায়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহা উদ্দিন ফারুকী জানান, গত বৃহস্পতিবার শিউলি মল্লিকা তার গৃহকর্মী মিনতি খাতুন (১০) হারিয়ে গেছে মর্মে সিরাজগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিশু মিনতিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকার অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় মিনতি। তার শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। প্রতিদিন তাকে নির্যাতন করা হতো বলে মিনতি জানায়।
ওসি জানান, মিনতির বয়স যখন মাত্র ছয় মাস তখন তার বাবা মক্কা ও মা মমতা মারা গেছেন। সে তার নানি রহিমা খাতুনের কাছে বড় হয়। গৃহকর্মীর কাজ করা রহিমার অভাবের সংসারে খাবার না পেয়ে মিনতি নয় বছর বয়সে গৃহকর্মীর কাজে আসে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক নুরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকার বাসায়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মিনতিতে কান্নারত ও অসুস্থ দেখে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামের জাহানারা নামে এক মহিলা মিনতিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও খাবার দেন। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে মিনতিকে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেন। খবর পেয়ে মিনতির অভিভাবক খালু আবুল কাশেম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকাকে গ্রেপ্তার করে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিবুল আলম শিশু মিনতিকে চিকিৎসা সেবা, শীতের পোশাকসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।