© টিডিসি ফটো
রাজশাহীর চারঘাটে মাছের প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে মৎস্য সংরক্ষন আইন অনুযায়ী পদ্মা নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২২ দিন ব্যাপি অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন এলাকা পদ্মায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ মাছ আহরন, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরন এবং বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অধিদপ্তর কার্যকরভাবে মা ইলিশ সংরক্ষন অভিযান-২০২০ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করে। উপজেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোষ্টারিং, মাইকিংসহ নানাবিধ প্রচারণা চালানো হয়। ভিজিএফ আওতায় কর্মহীন হয়ে পড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৫শত ৪০টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
এছাড়া ইলিশ সংরক্ষন অভিযান-২০২০ সফল করার উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রশাসন ও নৌপুলিশের সমন্বয়ের মাধ্যমে ৩৭টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলার পদ্মা নদীতে মোবাইলকোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ২২ দিনে ৬ লক্ষ ১১ হাজার মিটার কারেন্টজাল, অবৈধভাবে আহরিত ৩১কেজি ইলিশ মাছ ও ৪ জন জেলেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। পরে জব্দকৃত এইসব অবৈধ জাল অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এছাড়া আটককৃত জেলেদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আর্থিক দন্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও চারঘাট নৌ ফাড়ির সহযোগীতায় চারঘাটে এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি সফল অভিযান শেষ হয়েছে।