© টিডিসি ফটো
প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল খুলে নিয়োগ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কয়েক বছরে তিনি একাই শিক্ষক-কর্মচারীসহ ২৩ জনের হাতে নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পুঠিয়া উপজেলার ৪ নং ভালুকগাছি ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের মৃত কোরেশ উদ্দিন মোল্লা মারা যাওয়ার পূর্বেই তার দুই মেয়ে মোছা. জয়নব বেগম ও মোছা. শেফালি বেগমকে অংশ মোতাবেক ১৭ শতাংশ সম্পত্তি ভাগ করে দেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই সম্পত্তি প্রতিবন্ধী স্কুলের নামে দান করতে বলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
পরে সেই শর্ত মোতাবেক সম্পত্তি দান করেন। কিন্তু উপজেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান জয়নবের ছেলের বউকে তিন লাখ টাকা নিয়ে চাকুরি দিলেও শেফালি বেগমের কাউকে চাকরি দেননি তিনি।
জানা গেছে, প্রতিবন্ধী ওই স্কুলের নামকরন করেন তার পিতা মরহুম ওয়াজেদ আলীর নামে। আর তিনি হয়ে যান দাতা সদস্য। শুধু তাই নয় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব থাকা প্রত্যাশা নামের একটি সংস্থার রাজশাহী শাখার পরিচালক রাজু আহমেদের সাথে সমন্বয় করে করে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকা তারা দুজনে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্কুলটির বর্তমান প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মরহুম ওয়াজেদ আলী প্রতিবন্ধী স্কুলে আমি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নেয়ার সময় পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার হাতে ২ লাখ টাকা দিয়েছি।’
ভ্যান চালক রতন মিয়া বলেন, ‘আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা আমাকে স্কুলের ভ্যান চালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা নিয়েছে। পরবর্তীতে আমার জায়গায় অন্য একজনকে নিজের ইচ্ছা মতো নিয়োগ দেন তিনি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা বলেন, ‘মরহুম ওয়াজেদ আলী প্রতিবন্ধী স্কুলের নিয়োগের বিষয়ে কেউ আমাকে টাকা দেয়নি। আমি কোনো টাকা নেইনি। টাকা-পয়সা সব নিয়েছে প্রত্যাশা প্রতিবন্ধী সংস্থার পরিচালক রাজু আহমেদ।’
এদিকে প্রত্যাশা প্রতিবন্ধী সংস্থার পরিচালক রাজু আহমেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মরহুম ওয়াজেদ আলী প্রতিবন্ধী স্কুলের নিয়োগ বিষয়ে আমাকে কেউ কোনো টাকা পয়সা দেয়নি। টাকা পয়সার সব লেনদেন হয়েছে আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার সাথে। তিনি সব জানেন।’