দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিসকরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার পরে ডা. জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, তাকে নিয়ে আসার সময় ব্যান্ডেজ করা ছিল। অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়ার পর মাথায় মোট নয়টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একটা খুব বড়, হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। এছাড়া মাথার দুই পাশে তিনটা করে ছয়টি, মুখের উপরে একটি, নাকের উপরে একটি ও চোখের নিচে একটি।
তিনি বলেন, ভেতরে ঢুকে যাওয়া হাড় বের করা হয়েছে। রক্তরক্ষণ বন্ধ হয়েছে। অন্য আঘাতগুলোও রিপেয়ার করা হয়েছে। তবে এটা হেড ইনজুরি, ব্রেইনে রক্তক্ষরণের ব্যাপার। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন কিনা এখনই বলতে পারবো না। অন্তত ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ রাখার পর বলা যাবে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এখনই শঙ্কামুক্ত আমরা বলবো না। ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কারণ মাথায় আঘাত লেগেছে, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে, ডান পাশ প্যারালাইজড। আশা করি সচল হয়ে যাবে, তবে তাতে সময় লাগবে।’
এর আগে ওয়াহিদা খানমকে একটি হেলিকপ্টারে রংপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার দিনগত রাত আড়াইটার ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গেটে দারোয়ানকে বেঁধে বাসার পেছন দিয়ে ভেনটিলেটর ভেঙে প্রবেশ করে তারা।
ভেতরে কুপিয়ে ও আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাদেরকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।