চাচাদের ফের হামলার ভয়ে ঘর ছাড়া ঢাবি ছাত্রের পরিবার!

০৪ আগস্ট ২০২০, ০২:৪৮ PM
আহত মোহাদ্দেস ও তার পরিবাব

আহত মোহাদ্দেস ও তার পরিবাব

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাদ্দেস ও তার পরিবার। ঈদের আগের দিন দুই চাচা ও তাদের সন্তানদের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবা। এদিকে চাচাদের পুনরায় হামলার ভয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে খালার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঢাবি শিক্ষার্থী।

মোহদ্দেস অভিযোগ করেন, এক চাচাতো ভাই পুলিশের উপপরিদর্শক রয়েছেন। সেই উপপরিদর্শকের ক্ষমতা বলেই নিরীহ মোহাদ্দেসের পরিবারের উপর হামলা এবং নির্যাতন চলছে। এলাকাবাসী একাধিকবার চেষ্টা করেছেন এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কিন্তু তারা তা মানেন নাই। মোহাদ্দেসদের সামান্য জমির প্রতিই লোভ তাদের।

হামলায় আহত ঢাবি শিক্ষার্থী মোহাদ্দেস বলেন, “দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে আমার চাচারা আমাদের উপর নির্যাতন করে আসছেন। আমাদের জমি চাচাদের জমির মাঝখানে হওয়ায় তারা চায় আমরা ওদেরকে আমাদের কেনা জমি ছেড়ে দিয়ে চলে যাই। আমরা কেনা জমি ছাড়তে না চাইলে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে- কিভাবে আমাদের ওখান থেকে উচ্ছেদ করা যায়। এ নিয়ে কয়েকবার আমাদের উপর নির্যাতন করছিলো।”

“আমরা এই নির্যাতন সহ্য করছিলাম কারণ আমাদের পড়াশোনায় যাতে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। চাচার ছেলেরা পড়াশোনা করে না (তিনবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেনি)। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে ওদের অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। লকডাউনে বাড়িতে আসলে ওরা পরিকল্পনা করে আমাকে এবং আমার ভাইকে (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) মারার জন্য রাস্তায় ঘুরত। সেজন্য বাড়ি থেকে বের হতাম না।”

সর্বশেষ হামলার নিয়ে ভুক্তভোগী ঢাবি ছাত্র বলেন, শুক্রবার (৩১ অগাস্ট) বিকালে ৪টার সময় বাবা বাড়ির বাইরে বের হলে দুই চাচার চার ছেলে, চাচার ছেলের বউ, চাচা আমার আব্বাকে লাঠি, কাঠ, বাঁশ নিয়ে মারা শুরু করেন। আমরা চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি আব্বাকে মাটি শোয়ায়ে সবাই মারতেছে। আমরা আব্বাকে রক্ষা করতে গেলে আমাদেরও মারা শুরু করেন। আমরা কোন রকমে আব্বাকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসি। আমাদের বাড়ি এখন ওদের দখলে, আমরা বাড়িতে গেলেই আমাদের মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

হামলার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোহাদ্দেস। তিনি বলেন, “আমি আব্বা গত শুক্রবার থেকে আজকে (মঙ্গলবার) পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার পরিবারের সদস্যরা খালার বাড়িতে আছে। আমার ও আমার পরিবারের উপর এ প্রাণঘাতী হামলার বিচার চাই।”

তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ঢাবি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের উপর হামলাকারী চাচাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ হামলায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট সোসাইটি অব কুড়িগ্রামের সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত স্বপন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছোট ভাই মোহাদ্দেস ও তার পরিবারের উপর বর্বোরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

একক নাকি জোটগতভাবে লড়বে—দ্বিধাদ্বন্দ্বে এনসিপি
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
দায়িত্ব নিয়েই নিজের প্রথম কাজ কী হবে, জানালেন তামিম
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ: এর আগে আরও যেসব হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
আম পাড়তে গিয়ে পা ছিটকে পায়ুপথে রড ঢুকে শিশুর মৃত্যু
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জমিজমা নিয়ে ডাকা সালিস বৈঠকে সংঘর্ষ: বৃদ্ধ নিহত, আহত ৩০
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close