নুসরাত হত্যা: মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি

২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২০ AM

© সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রলী নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফেনী জেলা কারাগারে পৃথক কনডেম সেল না থাকায় কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এ চিঠি পাঠিয়েছে বলে সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি যেসব সেলে রয়েছে, সেসব সেলের অন্য আসামিদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে ফেনী কারাগারের জেলার দিদারুল আলাম বলেন, ‘ফেনী জেলা কারাগারে কোনো কনডেম সেল নেই। এজন্য নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর জন্য আইজি প্রিজনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা কারাগারে অনেকগুলো কনডেম সেল রয়েছে।’

জানা গেছে, সেসব কনডেম সেল ফাঁকা থাকলে আসামিদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। ফাঁকা না থাকলে কাশিমপুরসহ যেসব কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেল ফাঁকা আছে, সেখানে আসামিদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয় নুসরাতকে।

এ সময় তাঁর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মামলা দায়ের করেন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আসামিদের এজলাসে আনা হয়। ৩ মিনিটের মধ্যে আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। বেলা ১১টা ৮ মিনিটে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ রায় পড়তে শুরু করেন।  বিচারক অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায় পড়তে বিচারক সময় নেন ১২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।

এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুরো বিষয়টির একটি চিত্র আঁকে। সেখানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ আসামির কার কী ভূমিকা ছিল, তা তুলে ধরা হয়। পুলিশি তদন্তের তথ্য অনুযায়ী নিচে তা জানানো হলো।

সিরাজ উদদৌলা: কারাগারে বসে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা করেন। সহযোগীদের সেখানে ডেকে নির্দেশ দেন পুড়িয়ে মারার।

রুহুল আমিন: থানা ও প্রশাসন ম্যানেজ করার দায়িত্ব নেন। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

মাকসুদুল আলম: হত্যার সরঞ্জাম কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা দেন। অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করান।

শাহাদাত হোসেন: নুসরাতকে হত্যার জন্য কেরোসিন কিনে দেন। ঘটনার সময় তিনি নিজে নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন।

আফসার উদ্দিন: নুসরাতকে আগুন দেওয়ার আগে মাদ্রাসার ফটকে পাহারা দেন। মামলা তুলে নিতে চাপ দেন।

আবদুল কাদের: তিনিও নুসরাতকে হত্যার আগে মাদ্রাসার মূল ফটকে পাহারা বসিয়েছিলেন। হত্যায় সহযোগিতা করেন।

উম্মে সুলতানা: নুসরাতের সহপাঠী ছিলেন। নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেন। ওড়না দিয়ে নুসরাতের হাত পেছন করে বেঁধে ফেলেন।

কামরুন নাহার: তিনি হত্যার জন্য বোরকা ও হাতমোজা কেনেন। ঘটনার সময় নুসরাতের হাত বাঁধেন এবং চেপে ধরেন।

ইফতেখারউদ্দিন: মাদ্রাসার ছাত্র। নুসরাতকে হত্যার আগে বৈঠকে অংশ নেন। মাদ্রাসার মূল ফটকের পাশে পাহারা দেন।

নুরউদ্দিন: কারাগারে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী হত্যা করতে বৈঠকে অংশ নেন।

মো. জোবায়ের: নুসরাতের ওড়না দুই ভাগ করে ফেলেন। ওড়নার একাংশ দিয়ে নুসরাতের পা পেঁচিয়ে ধরেন।

মহিউদ্দিন শাকিল: সাইক্লোন শেল্টারের দুই সিঁড়ির সামনে পাহারা দেন। যাতে সবাই নিরাপদে চলে যেতে পারেন।

আবদুর রহিম: মাদ্রাসার ছাত্র। নুসরাত হত্যার আগে তিনি মাদ্রাসার ফটকে পাহারা দেন।

ইমরান হোসেন: মাদ্রাসার মূল ফটকের পাশে পাহারা দেন। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

জাবেদ হোসেন: নুসরাতকে হত্যার আগে বৈঠকে অংশ নেন। আগুন দেওয়ার আগে নুসরাতের পা বেঁধে ফেলেন।

মো. শামীম: সাইক্লোন শেল্টারের দুই সিঁড়ির সামনে পাহারা দেন। যাতে কেউ আসতে না পারে।

সৌদি আরব থেকে আসা খেজুর কোন জেলায় কত বরাদ্দ, দেখে নিন
  • ১১ মার্চ ২০২৬
দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর, কারামুক্…
  • ১১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে শাহ আমানতে আরও চার ফ্লাইট বাতিল
  • ১১ মার্চ ২০২৬
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করলেন তারেক রহমান
  • ১১ মার্চ ২০২৬
ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ
  • ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন উত্তর কোরিয়ার
  • ১১ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081