চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে দুর্ঘটনাকবলিত বাস © টিডিসি ফটো
বাসের সামনের অংশ পানিতে ডুবে গিয়েছিল। সামনের আসনে থাকা মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহানা আফরোজ এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাদেরা আফরোজের স্বামী সাখাওয়াত হোসেন ইসরাফিল শ্বাস নিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে প্রাণ হারান তারা। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার এভাবে বর্ণনা দিচ্ছিলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের শরীরে বড় ধরনের আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির নির্দিষ্ট একটি অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানা প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা গেছে, যে শিক্ষা সফর ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস, সেই সফরই কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। সহযাত্রীদের এমন করুণ পরিণতিতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনেরা। এমনকি বেশ কয়েকজনের পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যাগ থানার সামনেই পড়ে ছিল।
আরও খবর: বাস ডুবে যাচ্ছিল পানিতে, বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে কক্সবাজারগামী শিক্ষা সফরের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ডোবায় পড়ে গেলে এক মাদরাসা শিক্ষিকাসহ দুজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।