সরকারি সড়ক দখল করে নির্ম াণ করা হয়েছেদোকানপাট © টিডিসি
নওগাঁর রাণীনগরের খাঁনপুকুর বাজারে সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি জায়গা উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল আজিজ করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং করজগ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, রাণীনগর থেকে খাঁনপুকুর হয়ে আবাদপুকুর এবং কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক। এই সড়কের খাঁনপুকুর বাজারে উত্তরপাশে করজগ্রাম মৌজায় সড়কের সরকারি সম্পদ রয়েছে। বিগত সময়ে বেশ কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখলে নেন করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ ও তার ভাই। এরপর সেখানে সরকারি কোন অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে তুলেন ইটের এবং টিনশেডের প্রায় ৮-১০টি দোকানঘর। ওই সব অবৈধ দোকান ঘর তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষক স্থানীয় লোকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, আজিজ মাস্টার ও তার ভাইয়েরা যে জায়গায় দোকানপাট করেছে ওই জায়গা সড়কের সরকারি সম্পদ। বিগত সময়ে আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে ওই সময় তিনি অবৈধভাবে দোকানপাট করেছে। সরকারি জায়গায় নির্মাণ করা দোকান ঘর তিনি বিভিন্নজনের কাছে ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য করে আসছে। অথচ এই সরকারি সম্পদ থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না।
তাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে ওই প্রধান শিক্ষক তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ উদ্ধার এবং সরকারি সড়কের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ওই জায়গায় সড়কের পাশে যতগুলো দোকান রয়েছে, একটি বাদে সব দোকান আমাদের পৈত্রিক জায়গায়। শুধু একটি দোকানের কিছু অংশ সরকারি নকশাতে পড়েছে। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে দ্বন্দের জেরে কিছু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
রাণীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় অন্য একটি কাজের জন্য গেলে বিষয়টি স্থানীয়রা আমাকে অবহিত করেন, সে সময় আমি সরজমিনে দেখে এসেছি। পরে তারা আমার দপ্তরের একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার অফিসের কামরুল ইসলামকে মাপ যোগ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, স্থানীয় কিছু লোকজন ওইসব দোকানের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।