ফের কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ হোম ইকোনমিক্স শিক্ষার্থীদের

০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ AM
সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের © সংগৃহীত

অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আজও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) শিক্ষার্থীরা। দুই দফা দাবি বাস্তবায়নে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ‘জেগেছে রে জেগেছে, হোম ইকোনমিক্স জেগেছে’, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন, জবাব চাই’ এবং ‘আমার বোন আহত কেন, জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে এবং অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। দ্বিতীয় দাবিতে, মধ্যরাতে কলেজ ও ছাত্রীদের আবাসিক হলে পুলিশের প্রবেশ, লাঠিচার্জ ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তারা। পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন তারা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপরও কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাদের সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়।

অধ্যক্ষকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রীদের চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামানো, লাঠিচার্জ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন থেকে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন ছাত্রী পুলিশের পায়ের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ছাড়া কলেজের আবাসিক হলে প্রবেশ করে পুলিশ ছাত্রীদের মারধর ও লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তাদের। দুই শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের সহপাঠীরা আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে কলেজের সামনে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে নির্ধারিত চাকরির পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দিতে চান। একই সঙ্গে পরীক্ষার কারণে অধ্যক্ষ যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারেন, সে দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রথমে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরে ওই দুই শিক্ষার্থী ক্ষমা চাইতে গেলে তাদের আবাসিক আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ভোর ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছেন। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইলে তিনি নমনীয় হন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি।’

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’

শরণার্থী আইন ও সুরক্ষা নিয়ে এসইউবিতে দিনব্যাপী বুটক্যাম্প অ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রাজুকে ব্লেম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে, আমরা তার সাথে আছি: রাশে…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কাশিমপুর কারাগারে হত্যা মামলার হাজতির আত্মহত্যা
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
৯-১০ জনকে নিয়ে হোটেলে ফারজানা, জ্ঞান ফেরার পর রনি জানলেন— ‘…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950