একজনের হাতে অস্ত্রসদৃশ বস্তু © সংগৃহীত
যশোরের শার্শায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর একই ব্যক্তিকে ঘিরে অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা বাজারের ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু হাতে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওর ওই ব্যক্তি ফুলসর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে শরীফ।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাড়াতলা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, শরীফের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে শরীফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শার্শা থানায় জিডি করেছেন বিপুল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বিপুল বিশ্বাস উল্লেখ করেন, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে শার্শা এলাকায় তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় করা জিডিতে মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ, মো. আমির আলী, মো. মকবুলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিপুল বিশ্বাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, সাড়াতলা বাজার এলাকায় এক ব্যক্তি হাতে অস্ত্রসদৃশ একটি বস্তু নিয়ে অবস্থান করছেন এবং পরে বাজারের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তিই শরীফ। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শরীফকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে আসেন শার্শা উপজেলার এক প্রভাবশালী নেতার ভাইপো। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে করা জিডিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ভিডিওটির সত্যতা ও অস্ত্রের বিষয়টি যাচাইসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।