মাদরাসা সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দার © সংগৃহীত
বাগেরহাটে শরণখোলা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ছাত্রী নিয়মিত ওই শিক্ষকের কাছে কোরআন শিক্ষার জন্য যেতেন। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া (স্বতন্ত্র) এবতেদায়ী মাদরাসার সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দারের (৪৮) বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মাদরাসা সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মৃত আ. গফফার জোমাদ্দারের ছেলে। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল সাতটার দিকে কোরআন শিক্ষার জন্য ওই ছাত্রী ইলিয়াছের কাছে যায়। পড়া শেষ হলে সকাল পৌনে আটটার দিকে সে ওই ছাত্রীকে লাইব্রেরি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ওই ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে বলে এ ঘটনা কাউকে জানালে তোকে খুন করে ফেলব। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি তার মাকে খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এক পল্লীচিকিৎসকের কাছে মেয়ের চিকিৎসা করান তার মা। এতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তাকে মোরেলগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করান।
১১ দিন পর মামলার প্রসঙ্গে ছাত্রীর স্বজনরা জানান, তারা মান-সম্মানের ভয়ে এতদিন নিরব ছিলেন। মামলা না করলে অপরাধী রেহাই পাবে। সে আবারও একই অপরাধ করবে। তাই এতদিন পর আইনের আশ্রয় নিয়েছি আমরা।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার সরকার জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর আসামি ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওই পরিবার সোমবার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।