মিরসরাইয়ে এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন, রাত জেগে গ্রাম পাহারা

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ AM
আগুনে পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্র

আগুনে পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্র © টিডিসি ফটো

মিরসরাইয়ে একটি হিন্দুপাড়ায় একের পর এক আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে  মন্দির, বসতঘর, খড়ের গাদাসহ সাত স্থানে আগুন দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে একজনের বসতঘরে আগুন দেওয়ায় ঘরের একাংশ পুড়ে গেছে। এতে এলাকায় বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন রাত জেগে এলাকায় পাহারা দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য হয়তো এমনটি করা হচ্ছে।

গতকাল মিরসরাইয়ের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, মাতৃমন্দিরে বার্ষিক মহোৎসব উপলক্ষে লোকজন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। তবে তাদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবুল ধর জানান, 'গত ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তপন ধরের বাড়িতে ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা শুকনো পাতার বস্তায় প্রথম আগুন লাগানো হয়। এতে মন্দিরের ভেতরের সোলার ব্যাটারিসহ বেশকিছু জিনিসপত্র পুড়ে যায়। ২৪ জানুয়ারি ভোরে অমিও ধরের বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৫ জানুয়ারি সকালে কানু নাথের খড়ের গাদায় ও সন্ধ্যায় অমিও ধরের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই দিন রতন ধরের রান্নাঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ২৬ জানুয়ারি অশোক ধরের বাড়িতে শুকনো পাতার বস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুপ ধরের বসতঘরের পাশে প্লাস্টিক ব্যবহার করে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মৃদুলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় বসতঘরের আলনা, কাপড়সহ ঘরের একাংশ পুড়ে যায়।'

মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা জানান, ‘দুপুরের দিকে তিনি ঘরে একা ছিলেন। তাঁর শাশুড়ি ও স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। হঠাৎ করে ঘরের বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে আগুন নেভান। ওই সময় ঘরে বিদ্যুৎ ছিল না।’ 

এলাকার বাসিন্দা রাম ধর জানান, দু-একটি ঘটনার পর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আগুন দেওয়ার ঘটনা থামছে না। পাড়ার বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হয়তো কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য হয়তো এমনটি করা হচ্ছে। তারা খুব শঙ্কায় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপাশ চৌধুরী জানান, সবগুলো ঘটনা সকাল থেকে সন্ধ্যায় মধ্যে ঘটেছে। দিনে মানুষ কাজে ব্যস্ত থাকায় সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। তারা গ্রামে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। 

এবিষয়ে মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াছমিন জানান, জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ার ঘটনাগুলো শুনে তিনি সেখানে গিয়েছেন। পাড়ার মানুষের সঙ্গে কথা বলে কারা এসবে জড়িত তা জানার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে কেউ লিখিতভাবে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। 

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার গনমাধ্যমকে বলেন, হিন্দুপাড়ার ঘটনাগুলো শুনে থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট, …
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেরপুরের ঘটনার রেশ ধরে ঢাবিতে বিএনপির শীর্ষ নেতার নামে স্লো…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কর্ণফুলীতে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিরসরাইয়ে এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন, রাত জেগে গ্রাম পাহারা
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুই প্রভাষক নিয়োগ দেবে ঢাবির মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, আবেদন শেষ …
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির এক ব্যবসায়ী
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬