শেরপুরে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা খুন, মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫০ AM
মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ 

মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ  © টিডিসি ফটো

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে মুহসিন হল হয়ে হলপাড়ার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

এসময় তারা 'অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'মানুষ খুনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'দিয়েছি তো রক্ত  আরো দেবো রক্ত','রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়', 'জাস্টিস ফর রেজাউল', 'তারেক রহমান জানেন নাকি? রেজাউল খুনের নায়ক আপনি','তারেক রহমান জানেন নাকি? নারী হেনস্তার নায়ক আপনি','প্ল্যান, প্লান ,কোন প্লান ? মানুষ খুনের মাস্টার প্ল্যান' ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

সমাবেশে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, আপনি বলেছিলেন 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান' আর আমরা দেশ জুড়ে দেখতে পেলাম আপনার নেতাকর্মীরা শুরু করেছে চাঁদাবাজি, আপনার নেতাকর্মীরা শুরু করেছে দখলদারি, শুরু করেছে দেশে নারীর উপর ঘৃণ্য হামলা। আমরা জানিনা  এই নারীর উপর হামলা ,চাঁদাবাজি, খুনাখুনি এগুলো আপনার প্লান কিনা!যদি আপনার প্ল্যান হয়ে থাকে তাহলে হাসিনার মতই পরিণতি বরণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে আপনার নেতাকর্মীদেরকে সামলান।

ইন্টেরিমকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমরা যে আশা নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম তার সিকি পরিমাণ পূরণ করতে পারেন নাই। আমাদের যে সর্বশেষ আশা ছিল একটা নিরাপদ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া তাও করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন।  আপনারা আজকে একটা রাজনৈতিক দলের নেতাকেই নিরাপত্তা দিতে পারেন না  আপনারা কীভাবে আমার দেশের সাধারণ নাগরিককে নিরাপত্তা দিবেন।

সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান ইন্টেরিম। একে তো আপনারা অযোগ্য। তার উপরে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ করে চলছেন আপনাদের বায়াসনেস। এই বায়াসনেস দেখিয়ে যদি আবার নতুন করে আমার সোনার বাংলাকে সন্ত্রাসের পরিণতি স্বপ্ন দেখে থাকো সেই দাঁতভাঙা জবাব দিবো।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মঞ্চে মিষ্টি, ফুলজুরি  বক্তব্য দিয়ে মানুষ আর প্রভাবিত হয় না। যে পলিসির কথা বলে, নতুন প্ল্যানের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না বরং মানুষ কর্মের মাধ্যমে দেখতে চায় যে একটি দল কি কাজ করতে পারে, আমরা সেটি আজকে শেরপুরে দেখেছি।

বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি আপনারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চান তাহলে গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি সেই রাজনীতি করতে হবে । খুনের রাজনীতি যেই রাজনীতির সূচনা করে গিয়েছে হাসিনা সেটি যদি আপনারা করতে থাকেন তাহলে অবশ্যই এর জবাব বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখে অবশ্যই দেবে।

প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে সফল করার জন্য  যে দায়িত্ব আপনাদের উপরে আরোপিত হয়েছে এই দায়িত্ব আপনারা কতটুকু পালন করতে পারবেন তা আজকে শেরপুরের ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যদি আপনারা নিরপেক্ষভাবে এর তদন্ত করে দোষীদেরকে বিচারের আওতায় আনতে না পারেন তাহলে আপনাদের পরিণতিও ভয়াবহ হবে। আমরা যে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং খুনের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবো‌।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল হচ্ছে বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ হবে?”

তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় আনবেন এমন আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে সারাদেশে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে দল সংস্কার করুন, জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করুন এবং সন্ত্রাসী ও নারী হেনস্তাকারীদের বিচারের আওতায় আনুন।

শেরপুরে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতা রেজাউল ভাই নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সাদিক কায়েম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জুলাই প্রজন্ম আরও শক্তভাবে রাজপথে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম নটরডেমের আকিফ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি হামলায় জামায়াত নেতা নিহতের প্রতিবাদে চবিতে শিবিরের ব…
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা খুন, মধ্যরাতে ঢাবিতে বি…
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি হামলায় জামায়াত নেতা নিহতের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জে রাতে বিচারকের বাসভবনে ককটেল নিক্ষেপ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
diuimage