শিক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার © সংগৃহীত
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭ সাল, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্মরণীয় অধ্যায়, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার প্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করেছে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে জীববিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : শিক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএসি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: শিক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ। এই শিক্ষা আসলে এডুকেশন না, এটা লেসন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম এবং আগামীতে আমরা বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেটা কীভাবে ব্যবহার করব।
তিনি বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি যুগে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন একটি জাতি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে। ওই মুহূর্তগুলো জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। মানুষের সাহসকে জাগিয়ে তোলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিক নির্দেশনা রেখে যায়।
‘‘তবে প্রশংসা বা সমালোচনা করা নয় বরং তার অন্তর্নিহিত শিক্ষা অন্বেষণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্তিবাদী ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দেওয়া সমাধান করা যাবে জাতির নৈতিক দিক নির্দেশনাও দেবে। এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই আজকের আলোচনা।’’
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের প্রতিটি অধ্যায় প্রতিটি অধ্যায়ে থাকে আশা-হতাশা, সাফল্য-ব্যর্থতা, আত্মত্যাগ এবং আত্মসমালোচনার উপাদান। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বুঝতে হলে আমাদের শুধু ঘটনাবলী নয়, সেই ঘটনার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষাগত অভিঘাতও বুঝতে হবে।
‘‘আজকের এই প্রবন্ধে আমি তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা এবং ঘটনার প্রবাহ। দ্বিতীয়ত এই অভিজ্ঞতা থেকে জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষা নিতে পারে। তৃতীয়ত আগামী বাংলাদেশ নির্মাণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকা কি হওয়া উচিত।’’
বিএসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার বিশ্বাস ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো কোনো ঘটনাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে অতীতে আটকে থাকা নয় বরং ভবিষ্যৎকে আরো সুন্দর করে গড়ে তোলার প্রয়াস থাকা।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ ফিরে পেতে চাই-যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবেনা, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে এবং সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবকল্যাণে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। ইতিহাস শিক্ষা দেয় জনগণকে অত্যাচার-নির্যাতন, দমন-পীড়ন করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণকে দমন করতে গিয়ে প্রায় দু’শ বছর পর এদেশে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত হয়েছে, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন দেখেছে ও একাত্তর সালে এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। ৯ বছরের মাথায় এরশাদ সরকারের পতন ঘটেছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তার এ পলায়ন প্রমাণ করেছে ‘অহংকার পতনের মূল’। অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং অসম্মান করার পরিণতি এমনই হয়- উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সব সরকার প্রধানকেই এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এইচ এম জুলফিকার আলী। মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার কলি, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহতাব ইসলাম আলোচনায় অংশ নেন।