প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ছাত্রজীবনেই কোটিপতি তারা

১৭ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩১ AM

© ফাইল ফটো

প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত মূল হোতাদের সম্পদের তালিকা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জড়িত ১২৫ জনের মধ্যে আর্থিক সুবিধা ভোগ এমন আটজনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এসব সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করবে সংস্থাটি।

প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যদের মধ্যে আটজনের ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। দুই বছর তদন্তের পর তাদের আসামি করে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। তদন্ত ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্যে প্রশ্নফাঁসের এ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।

এ বিষয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নফাঁসের মামলা নিয়ে তদন্তের একপর্যায়ে অর্থ পাচারের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে দেখা যায়, এ চক্রের আটজন সদস্য সরাসরি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। প্রশ্নফাঁসের টাকায় তারা অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। আটজনের প্রত্যেকেরই সম্পদের হিসাব পৃথকভাবে তৈরি করা হচ্ছে। অবৈধ অর্থে গড়া এসব সম্পদ জব্দের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আদালতে আবেদন করা হবে।

জানা গেছে, শিক্ষাজীবনেই প্রশ্ন বিক্রির টাকায় রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তারা। কিনেছেন দামি গাড়ি ও জমি, বানিয়েছেন বাড়ি। ব্যাংক হিসাবেও যোগ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। এরমধ্যে আট বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অর্থ আয়ের পর ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের নেতা মহিউদ্দিন রানা ও অমর একুশে হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে ইশরাক হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এরপর প্রায় দুই বছর তদন্ত করে প্রশ্নফাঁস চক্রের ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এদের মধ্যে ৪৬ জনই ঢাকার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাফিজুর রহমান, বিসিএস নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নড়াইলের ইব্রাহিম, বিকেএসপির সহকারী পরিচালক রাজবাড়ীর অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জের মোস্তফা কামাল, নাটোর জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা পাবনার রাকিবুল হাসান এছামী, ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরার রিমন হোসেন ও আইয়ুব আলী বাঁধন।

এজাহারে সাতজনের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের উত্তরার প্রাইম ব্যাংকের হিসাবে ২০১০ থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জমা হয়েছে প্রায় দুই কোটি দুই লাখ টাকা। উত্তরার সিটি ব্যাংকের হিসাবে তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন। এ ছাড়া হাফিজুরের জনতা ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে চার কোটি ৭১ লাখ টাকা।

প্রশ্নফাঁসের আরেক কারিগর ইব্রাহিমের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের যশোর শাখায় ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখায় প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি একটি হোন্ডা ভেজেল গাড়িও কিনেছেন।

এছাড়া ইব্রাহিমের স্ত্রীর উত্তরা ব্যাংকের নড়াইল শাখায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা জমা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ইব্রাহিমের ব্যাংক হিসাবে মোট প্রায় তিন কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এসব টাকা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে আয় করা বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইব্রাহিম।

বিকেএসপির কর্মকর্তা অলিপ বিশ্বাসের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখার হিসাবে ১৪ লাখ ৪০ হাজার, একই ব্যাংকের আরেক হিসাবে প্রায় এক কোটি আট লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ২১ লাখ, জনতা ব্যাংকে ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার, উত্তরা ব্যাংকে ৪০ লাখ ৮৬ হাজার, ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৩৫ লাখ ও রূপালী ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা হয়েছে।

এছাড়া তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখায় মায়ের নামে ৭০ লাখ টাকার এফডিআর করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি ও তার মায়ের হিসাবে লেনদেন হয়েছে তিন কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি।

অন্যদিকে বিএডিসির কর্মকর্তা মোস্তফা কামালের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সাতমসজিদ রোড শাখায় ১৫ লাখ ৭ হাজার টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের মিরপুর শাখায় ১৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানের হিসাবে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ও ৩৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ আয়ুব আলীর ব্যাংক হিসাবে ৬০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাবের বাইরেও জমি, বাড়ি ও গাড়ি কিনেছেন প্রশ্ন ফাঁসের আট কারিগর। এদের মধ্যে ইব্রাহিম নড়াইলের নড়াগাতী থানার তালবাড়িয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়া খুলনার মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় জমি কিনে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। এর বাইরে গোপালগঞ্জেও বেশ কয়েক বিঘা জমি কিনেছেন ইব্রাহিম।

গাজীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নিহত
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত রেলপথ, নোয়াখালী-ঢাকা ট্রেন চলাচল অ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
এরিয়া ইনচার্জ নেবে আকিজ গ্রুপ, সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যম…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
২০তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কবে, যা জানা যাচ্ছে
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
১৮তম নিবন্ধনের সুপারিশবঞ্চিতদের সুখবর দিলেন এনটিআরসিএ চেয়ার…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে সপ্তম বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট শুরু
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close