টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক © টিডিসি সম্পাদিত
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের চেষ্টা ও ক্লাস শেষে খাতা দেখতে একা যেতে বলা বিজ্ঞান বিভাগের সেই সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে পাঠদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘটনার তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত হাওলাদারকে আহবায়ক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী, টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস খানমকে সদস্য করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিদারুল আলম।
কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। ইউএনও দিদারুল আলম বলেন, ‘যেহেতু বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুককে সাময়িক বরখাস্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তাকে পাঠদান থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ঢাবির ১০৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ‘শিক্ষক মূল্যায়ন’, রেটিংয়ে কোনো শিক্ষক পাচ্ছেন ৫-এ ৫, কেউ ১-২
বিষয়টি তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হবে। তখন আশা করি, তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের চেষ্টা ও ক্লাস শেষে খাতা দেখতে একা যেতে বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত মঙ্গলবার শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থলে যান। তখন তাদের আশ্বাসে ঘন্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরেন শিক্ষার্থীরা।