ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও গ্রেপ্তার তিনজন © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে যাওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে ও পুত্রবধূ। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এই তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)। আর গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)। তাদের বাসা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার। মিম আক্তার সেখানে গৃহকর্মী ছিল।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ১২ আগস্ট বেলা ১১টায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ওই কিশোরীকে ফেলে যান দুজন ব্যক্তি। ওই সময় মরদেহে আঘাত ও গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া যায়। হাসপাতালের কর্মীরা তাকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই সময় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুই ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই কিশোরীকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরে এক ট্রলিম্যান কিশোরীকে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে যান। এরই মধ্যে কিশোরীটি মারা গেছে বুঝতে পেরে ওই দুই ব্যক্তি কৌশলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন। তাদের একজন টিকেট কাটার কথা বলে এবং অন্যজন অটোরিকশার ভাড়া দেওয়ার কথা বলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে শাহবাগ থানায় জানানো হলে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাও করা হয়।
পুলিশের দাবি, মিমকে হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা ছেড়ে রাতারাতি অন্যত্র গা ঢাকা দেন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ফেলে যাওয়া কিশোরীর লাশের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিম তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনাস্থলে মিমের কোনো মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস পাওয়া যায়নি। বয়স কম হওয়ায় তার আঙুলের ছাপ দিয়েও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।