গ্রিন লাইন বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে মাসিক পাঁচ লাখ টাকার প্রথম কিস্তির চেক দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার হাইকোর্টে গ্রিন লাইনের আইনজীবী রাসেলের হাতে ওই চেক তুলে দেন। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ এ বিষয়ে শুনানি হয়।
আদালত বলেছেন, ‘মাসিক কিস্তির অর্থ পরিশোধের আদেশ বহাল থাকবে। টাকা পরিশোধ করে যাবেন।’ আগামী ১৭ অক্টোবর আদালত-পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন। এর আগে ২১ জুলাই গ্রিন লাইনের পক্ষে নতুন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হকের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছিলেন হাইকোর্ট।
ধার্য তারিখে ওই আইনজীবীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে একদিনের সময় চান আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। গ্রিন লাইনের পক্ষে চেক তুলে দেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়, অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন ও সরদার জাকির হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম, বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী ধোলাইরপাড় প্রান্তে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় পা হারান এপিআর এনার্জি লিমিটেডের গাড়িচালক রাসেল। গ্রিন লাইন বাসটির চালক কবির বেপরোয়া গতিতে পেছন দিক থেকে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের সামনে গিয়ে কবিরের কাছে ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চান রাসেল।
এর জের ধরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবির ইচ্ছা করেই রাসেলের শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। দ্রুত সরার চেষ্টা করলেও এক পা বাঁচাতে পারেননি রাসেল। ঘটনাস্থল থেকে রাসেলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রিন লাইন বাসচালক কবির মিয়াকে একমাত্র আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন রাসেলের ভাই আরিফ সরকার। রাসেলের পা হারানোর ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম হাইকোর্টে রিট করেন। গত মার্চে হাইকোর্ট এক আদেশে রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে এবং প্রয়োজন হলে তার পায়ে অস্ত্রোপচার এবং কাটা পড়া বাঁ পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর জন্য খরচ বহন করতে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। গত ১০ এপ্রিল গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ রাসেলকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয়।