শিপন মিয়া © সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তরুণীকে অশালীন মন্তব্যের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে এক যুবক শিপন মিয়া (১৮) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিপন মিয়া উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বড় বোন সুমা আক্তার। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে এক তরুণীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও রাতে মরিচারচর এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে রবিবার (৩১ মে) সকালে ইব্রাহিমের সমর্থকেরা চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়।
আরও পড়ুন : ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা, স্বামী-সন্তান আহত
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, মূল্যবান মালামাল লুট করে এবং শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পাশাপাশি নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার, বাসনপত্র ও অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়। এতে বিয়ের আয়োজন ব্যাহত হয়।
একপর্যায়ে চরআলগী পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে আহত হন শিপন মিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে রবিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১ জুন) তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চরআলগী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মরিচারচর এলাকার ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে রবিবার রাতে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিপন ওই মামলার আসামিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন : মে মাসে হামলা-মামলা ও জীবননাশের হুমকির শিকার ৫৫ সংবাদকর্মী
নিহতের বড় বোন সুমা আক্তার বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে বারবার বলছিল, আপা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বোধহয় বাঁচব না। আমি বুঝতে পারিনি আমার ভাইটা সত্যিই চলে যাবে। যারা আমার ভাইকে মেরেছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।