চতুর্থ দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে জোড়া আঘাত হেনেছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে অ্যালেক্স কেয়ারিকে কট বিহাইন্ড করে ফেরানোর পর বাউ ওয়েবস্টারকেও বোল্ড করেছেন তিনি। মিরাজের দুই সাফল্যে অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়লেও ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।
নতুন দিনে সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দিনের সপ্তম ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অ্যালেক্স কেয়ারিকে কট বিহাইন্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অফ স্টাম্পের লাইনে পিচ করে বলটি হালকা টার্ন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কেয়ারির ব্যাটের বাইরের কানায় লাগে। পেছনে থাকা লিটন কুমার দাস সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দী করেন।
পাঁচটি চারে ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন কেয়ারি। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৬ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। এরপর ক্রিজে আসেন বাউ ওয়েবস্টার। অন্য প্রান্তে তখন ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন।
এরপর গ্রিন ও কেয়ারির জুটি ভাঙার পরও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে গ্রিন ও কেয়ারি ইতিবাচক ব্যাটিং করে পঞ্চম উইকেটে ৫০ রান যোগ করেছিলেন। চলতি ইনিংসে এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি।
আরও পড়ুন: সেই তর্ক কাণ্ডে মিরাজের কাছে ‘ভুল’ স্বীকার স্টার্কের
৬০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৭৮ রান। তখনও বাংলাদেশের চেয়ে ৫০ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
এরপর চাপের মধ্যেও দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন ক্যামেরন গ্রিন। টেস্টে ১৩ ইনিংসের মধ্যে এটিই তার প্রথম ফিফটি। ১০৯ বলে দুটি চারে ক্যারিয়ারের অষ্টম পঞ্চাশ পূর্ণ করেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
৬১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১৮০ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তখনও ৪৭ রানে পিছিয়ে ছিল তারা।
এরপর আবারও আঘাত হানেন মিরাজ। অফ স্টাম্পের লাইনে পিচ করে সোজা চলে যাওয়া একটি ডেলিভারি ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানার কাছ ঘেঁষে বোল্ড হন বাউ ওয়েবস্টার। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন তিনি।
ওয়েবস্টারের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ৬৬ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৯৩ রান। ক্রিজে নতুন ব্যাটার হিসেবে আসেন প্যাট কামিন্স। অন্য প্রান্তে ১২৩ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন।
মিরাজের জোড়া আঘাতের পরও অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ২০০ রান পূর্ণ করে। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান পূর্ণ করে তারা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ২৮ রানে পিছিয়ে ছিল। ক্যামেরন গ্রিন ১৩৪ বলে ৬২ রান এবং প্যাট কামিন্স ১৪ বলে ৩ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন।