ঈদুল আজহা
প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নির্দেশনাবলি জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক গণপরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রীসাধারণ এবং পথচারীদের জন্য এই নিয়মগুলো মেনে চলার বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ঈদযাত্রায় যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ডিএমপি এই যাত্রা সফল করতে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিজ্ঞপ্তিতে ৬ দফা নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে— সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টারে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাজির হতে হবে। যাত্রাপথে অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং মালামাল নিজস্ব হেফাজতে রাখতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী (বিশেষ করে ফিরতি) মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না। পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রী সবাইকে রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। রাস্তা পার হওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে দৌড়ানো বা মোবাইলে কথা বলা যাবে না এবং সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে ডিএমপি।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বাসমালিক ও শ্রমিকদের জন্য ১৪টি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বাস যাত্রার নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা হয়রানি করা যাবে না। একই সিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা এবং বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া চালকদের বেপরোয়া গতি পরিহার করে গতিসীমা মেনে চলতে হবে এবং ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক বা সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না। চালকদের একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না। গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার, উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং কোনো অবস্থাতেই উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে না।