রামিসা হত্যা মামলা

ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে, চার্জশিট আজ

২৪ মে ২০২৬, ০৮:১৫ AM , আপডেট: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:২০ AM
বামে ও ডানে দুই অভিযুক্ত এবং মাঝের বৃত্তে নিহত শিশু রামিসা

বামে ও ডানে দুই অভিযুক্ত এবং মাঝের বৃত্তে নিহত শিশু রামিসা © সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহেল রানাই এ ধর্ষণকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামিসাকে ধর্ষণের পরই মূলত শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট এবং রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এই ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনগুলো তদন্ত কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মামলার নিখুঁত অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) খসড়া বা ড্রাফট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) আদালতে এই চূড়ান্ত অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে, যেখানে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জবানবন্দিতে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি ‘ইয়াবা’ নামক মাদক সেবন করেছিলেন। একই সাথে তিনি শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনাও আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী পবিত্র ঈদুল আজহার পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণের পাশাপাশি শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ প্রায় শেষ। সরকার ঘোষিত রবিবারের (২৪ মে) নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। শনিবার গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, ‘সরকারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবারের ভেতরে চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য আমরা রাতদিন কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া জড়িত। যেহেতু অভিযোগপত্র এখন আর আগের মতো হাতে লেখা হয় না, এটি সিডিএমএসে ডিজিটাল এন্ট্রি দিতে হয়, তাই আমরা কারিগরি বিষয়গুলো প্রসেস করে সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যেই তা আদালতে দাখিল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’

রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) নিয়োগ দিয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্ল­বী থানার এই বিশেষ মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে ‘বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এদিকে শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ ধরণের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্ল­বী থানার একটি আবাসিক বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশ একযোগে ফুঁসে ওঠে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে টানা বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেন। উত্তাল আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিহত রামিসাদের বাসায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা দেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। বর্তমানে আসামিরা বিচারিক হেফাজতের মাধ্যমে কারাগারে রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরের নির্দেশে তিন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত
  • ২৪ মে ২০২৬
৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫
  • ২৪ মে ২০২৬
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলল খুলিবিহীন মরদেহ
  • ২৪ মে ২০২৬
হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি, পাল্টা হামলায় সন্দেহভাজন যুবক নি…
  • ২৪ মে ২০২৬
নতুন নলকূপ দিয়ে বের হচ্ছে ‘গ্যাস’, উৎসুক মানুষের ভিড়
  • ২৪ মে ২০২৬
ছয় জেলায় দুপুর ১২টার মধ্যে কালবৈশাখী-বজ্রবৃষ্টির সতর্কবার্তা
  • ২৪ মে ২০২৬