প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে নাজমিন (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বর্তমান স্বামী সুজন (৩২) গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত সাবেক স্বামী জাকিরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেন।
রোববার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীর জামাই বাজার এলাকার শাহজাহানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে নাজমিনের সঙ্গে জাকিরের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে নাজমিন রিকশাচালক সুজনকে বিয়ে করে জামাই বাজার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তবে বিচ্ছেদের পর থেকেই জাকির বিভিন্ন সময় নাজমিনকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে জাকির হঠাৎ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে নাজমিনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাজমিনকে জবাই করে হত্যা করে। এসময় স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বর্তমান স্বামী সুজনের ওপরও হামলা চালানো হয়। তার পেট, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত সুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা শারমিন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি তদন্ত জিল্লুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত জাকিরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।