প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে মেহেদী হাসান মারুফ (১৮) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আন্নরআলী মাতবরপাড়ায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মেহেদী হাসান মারুফ পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা মিজবাহ উদ্দীন বাবুলের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে শান্ত, ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল মারুফ। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষকরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে ভুগছিলেন। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হতে হয়েছে তাকে। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক মাস পরপরই তাকে শরীরে রক্ত নিতে হতো। অসুস্থতার মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি এবং ভবিষ্যতে একজন আলেম হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
শনিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি সেলুনে চুল কাটার পর নিজ বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নামেন মারুফ। গোসলের এক পর্যায়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুনে দ্রুত পুকুরে নেমে তাকে উদ্ধার করেন। আশপাশের লোকজনও ছুটে এসে সহযোগিতা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম বলেন, ‘ছেলেটি জন্ম থেকেই অসুস্থ ছিল। নিয়মিত তাকে রক্ত দিতে হতো। অনেক কষ্টের মধ্যেও সে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। আজ সকালে গোসল করতে নেমে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।’ তিনি মারুফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এদিকে মেহেদী হাসান মারুফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সহপাঠী, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই জানান, মারুফ অত্যন্ত বিনয়ী ও ধর্মভীরু ছেলে ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয়দের মতে, অসুস্থ শরীর নিয়েও মারুফ সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতেন। জীবনের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের পর এভাবে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু পুরো এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে। পরিবারের একমাত্র স্বপ্নবাহী সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।