নিহত যুবদলকর্মী নাসির উদ্দিন © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গুলিতে এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ইশান ভট্টেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. নাসির উদ্দিন (৫০)। তিনি উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও দুদু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত নাসিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে নাসিরকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাসিরের শরীরে একাধিক গুলি লেগেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নাসির যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান বলেন, ‘নাসির যুবদলের কর্মী। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ‘অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা নাসিরকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
এর আগে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে একই উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিখিল গ্রামে কাউসারুজ্জামান (৩৬) নামের এক প্রবাসফেরত বিএনপি-সমর্থককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ৪৩ ঘণ্টার মাথায় আবারও গুলিতে একজন নিহত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ থেকে ২০ মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাউজানে অন্তত ২১ জন খুন হয়েছেন। খুনের ঘটনার পেছনে কারণ হিসাবে বেরিয়ে এসেছে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাটি-বালুর ব্যবসা এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা।