সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান © সংগৃহীত
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
এ ঘটনায় শিশু ও নারী নির্যাতন মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাকে প্রধান আসামি করে ২৫ বছর বয়সী বিধবা এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের এই ঘটনায় আরও চারজনকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার জানান, প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন (গতকাল শুক্রবার) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি এই পুলিশ কর্মকর্তার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে, তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে দেরি হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, জিসান মিয়া প্রধান পুরোপুরি সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ দাউদকান্দি থানার মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলা নম্বর ১৩। মামলাটি তদন্ত করে এখন আদালতে প্রতিবেদন দেবে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, এ ধর্ষণের মূল আসামি জিসান মিয়া। বাকি চারজন সহযোগী আসামি। তারা ঔষধ দিয়ে বাচ্চার গর্ভপাত করতে সহযোগিতা করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দি এলাকার এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সর্বশেষ গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন।