কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রুমেন শিকদার © সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিনামূল্যের সাধারণ ডেক দখল করে টাকার বিনিময়ে বিক্রির ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় রুমেন শিকদার (৩০) নামের স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ স্টাফদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এমভি বন্ধন-৫ নামের একটি লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-কালাইয়া নৌরুটের লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সাধারণ ডেক দখল করে টাকার বিনিময়ে বিক্রির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ঈদযাত্রা ঘিরে সিন্ডিকেটটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে যাত্রীরা বিনামূল্যের জায়গা পেতেও টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বসার মতো সামান্য জায়গার জন্য আদায় করা হয় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী রুমেন শিকদার জানান, ‘লঞ্চের সিট বিক্রি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কনটেন্ট তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা তাকে অনুরোধ করে আসছিলেন। শনিবার লঞ্চে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভিডিও ধারণের সময় হঠাৎ লঞ্চের সুপারভাইজার ও কেরানির নেতৃত্বে ৮-১০ জন দুর্বৃত্ত তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে যাত্রীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। হামলায় তার কানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান কানে তিনি কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার সবুজ ও কেরানি বেল্লালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘ শিকদারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লঞ্চের সিট বাণিজ্যকারী সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।