সেলিনা হায়াৎ আইভি © ফাইল ছবি
পাঁচ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরদিনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী এই তথ্য জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত বছরের জুনে বিস্ফোরক আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা মামলায় আসামির তালিকায় আইভীর নাম না থাকলেও ‘তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায়’ গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে পুলিশ। এ মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে জেলার একটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি হলে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানান তারেক আল মেহেদী। ওই দিন পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ভবনের তৃতীয় তলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের শিমরাইল শাখার অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজ করার সময় সেখানে তিন কর্মী পুড়ে মারা যান। তিন দিন পর তাদের মৃতদেহ ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের একজন ছিলেন ২৯ বছর বয়সি সেলিম মণ্ডল। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরজগন্নাথপুর গ্রামে। মৃত্যুর ১০ মাস পর গত বছরের ৬ জুন তার কৃষক পিতা ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলাটি করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ অগাস্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে আইভী হাই কোর্টে জামিন চেয়ে পাঁচটি আলাদা আবেদন করেন এবং জামিন পান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলো আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে তদন্ত করছি। কিছু মামলা তার গ্রেপ্তারের পরে হয়েছে, ফলে তদন্তে সেগুলোতেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে গ্রেপ্তারের আবেদন করে পুলিশ।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় এ জেলায় ১০৫টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র সাতটির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ‘সম্পৃক্ততা পেলে’ আরও মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা।