সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযানে আসলে কী হয়েছিল, বললেন ডিসি মাসুদ

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩১ PM
মো. মাসুদ আলম

মো. মাসুদ আলম © সংগৃহীত

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুলিশ কর্তৃক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে এই ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ঘেরাওকালে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে প্রত্যাহারসহ ক্যাম্পাস এলাকায় সব ধরনের পুলিশিং বন্ধের দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি তাদের। 

এছাড়া এদিন বেলা ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। এ সময় তারা পুলিশের হামলার প্রতিবাদ ও তাদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, গতকাল রাতে পুলিশের মাধকবিরোধী অভিযানে দুই সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনসহ কয়েকজন দর্শনার্থী পুলিশের মারধরের শিকার হন। 

এদিকে, এ ঘটনায় পুলিশের চার সদস্য ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন রমনার এই ডিসি। তিনি বলেন, অভিযান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা অভিযান শুরুর কিছুটা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর মাঝেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

তার ভাষ্য, এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবেই পরিচালিত হয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় অভিযানের সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাদকসেবীদের কাছ থেকে কাঁচি, ছোট ছুরি ইত্যাদি উদ্ধার এবং সেগুলো দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। সে কারণেই এসব অভিযান পরিচালনায় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

রমজান মাস ও সাম্প্রতিক ব্যস্ততার কারণে কিছুদিন সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে কিশোর ও তরুণরা অযথা বাইরে অবস্থান না করে। তিনি দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টার পর সেখানে সাধারণ দর্শনার্থী বা ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল না; অধিকাংশই সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘আমাদের পক্ষ থেকে কিছু ভুল হয়েছে—এটা ঠিক। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা হওয়া উচিত ছিল না।’ কয়েকজন সদস্য পরিস্থিতি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং “অতি উৎসাহী” আচরণের কারণে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

অভিযানের সময় রিজার্ভ ফোর্সকে ব্রিফিং দিয়ে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে স্বীকার করেন, কয়েকজন সদস্য পরিস্থিতি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং “অতি উৎসাহী” আচরণের কারণে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি নিজেও সমর্থন করেন না।

সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কিছু ভুল হয়েছে—এটা ঠিক। কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা হওয়া উচিত ছিল না।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজন সদস্যকে ইতোমধ্যে ‘ক্লোজড’ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

অভিযানের নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে আটক করলে প্রথমে আইনসম্মতভাবে তল্লাশি করা হয়। কিছু পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, আর কিছু না পাওয়া গেলে তাকে চলে যেতে দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, সাধারণত কারও সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয় না।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কেন রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার না করে ভেতরের রাস্তা দিয়ে হেঁটেছিলেন। তার মতে, রাত ১০টার দিকে অন্ধকার এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক নয় এবং এ বিষয়টি সন্দেহের উদ্রেক করে।তবে বিষয় যাই হোক, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত কার্যক্রম। আগামীতেও এটা চলবে। তবে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে যবিপ্রবির গণভোজে অংশ নেবেন ৩ হাজার…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
এবার গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে কবি নজরুল কলেজের অন্তত ২০ জন আহত
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে ২৬ যবিপ্রবির শিক্ষা…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতায় শিক্ষা অধিকার সংসদের উদ্বেগ, ৩ দফা দাবি
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ডুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬