অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের খবর। যদিও পরে পদত্যাগের খবর উড়িয়ে দেন আইজিপি নিজে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর বাহিনীটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেনে— শীঘ্রই পরিবর্তন আসছে শীর্ষ পদটিতে। এক্ষেত্রে পুরোনো কাউকে নয়, বরং ক্লিন ইমেজের নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সব কাজে গতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। এর ধারাবাহিকতায় সে বছর ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিদায়ী আইজিপি মো. ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন। সে হিসেবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে এর আগেই বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন সামনে আসে। আসে পরিবর্তনের গুঞ্জনও।
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫তম বিসিএসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন আইজিপি হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা আনসার উদ্দিন খান পাঠান।
জানা গেছে, এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির আওয়ামী লীগ শাসনামলে রোষানলের শিকার হয়ে চাকরিচ্যুত হন। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তা বর্তমানে অসামান্য পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছেন। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমযাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারারিতে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর গত বছরের ১১ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি (দ্বিতীয় গ্রেড) পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি।
অপরদিকে সিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ সাবেক আইজিপি এম আজিজুল হকের ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সিএমপির ৩৩তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন ডিআইজি হাসিব আজিজ। তিনি সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল থেকে সিএমপিতে যোগ দেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা হাসিব আজিজ ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০০২ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা আনসার উদ্দিন খান পাঠান পেশাদারিত্ব ও সততার জন্য বাহিনীতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিভাগের একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও দক্ষ ও সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়। বর্তমান বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা আনসার আলী পাঠানের সরাসরি ছাত্র। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পুলিশের সংস্কার ও দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে পরবর্তী ক্ষমতাসীনদের দ্বারা চাকরি জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি নিগৃহীত হন। তার পেশাদারিত্ব ও সততার জন্য তাকে সে সময় পুলিশ বাহিনী থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ২২ নভেম্বর বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে তার আগেই নতুন পুলিশপ্রধান নিয়োগের সম্ভাবনা প্রবল। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।