সিয়াম © সংগৃহীত
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি আইফোন ও নেশার টাকার লোভে সিয়াম (১৭) নামের এক কলেজছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সিয়াম মুকসুদপুর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের লিখন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকের টাকা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে চার বন্ধু মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গত শনিবার (৭ মার্চ) অভিযুক্তরা সিয়ামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করে তার ব্যবহৃত দামি আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহটি বাঁশবাড়ীয়া হাসপাতালের পেছনের কাশবনের পাশে একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ মার্চ থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিয়ামের কয়েকজন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পারভেজ মুন্সী ও দিদার মুন্সী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পুলিশ ওই পুকুরে তল্লাশি চালায়। এ সময় কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজন হলো-সাজিদ মুন্সী (পিতা: ইউপি সদস্য রিপন মুন্সী), পারভেজ মুন্সী (পিতা: টুটুল মুন্সী), অভি মুন্সী (পিতা: রহমান মুন্সী), উভয়ের বাড়ি বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে এবং দিদার মুন্সী (পিতা: সাহিন মুন্সী), ঝুটি গ্রামের বাসিন্দা।
মুকসুদপুর থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।