৯ হাজার টাকার মধ্যস্থতায় ছাড়া পেলেন মুক্তিযোদ্ধা!

১৫ জুন ২০১৯, ০৩:৫৭ PM

© সংগৃহীত

শিরোনাম শুনে অনেকেই চমকে যেতে পারেন। কিন্তু এমন ঘটনাই ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায়। পুলিশের বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে হেনস্থা করার পর ৯ হাজার টাকায় মধ্যস্থতায় করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়পুর ইউনিয়নের ভিটিদাউদপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রজব আলীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার প্রয়াত ছেলে আলী মাসুদের স্ত্রী রিক্তা আক্তারের মনোমালিন্য চলছিল। আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে স্ট্রোক করে মারা যান মাসুদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে রিক্তা তার বাবা ও স্বজনদের নিয়ে রজব আলীর বাড়িতে এসে মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা রজব আলী ও তার স্ত্রী রাহিমা আক্তারকে মারধর করেন। এ ঘটনায় রজব আলী লিখিত অভিযোগ নিয়ে বিজয়নগর থানায় গেলে ওসি ফয়জুল আজিম বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসানের কাছে পাঠান।

একইদিন দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ নিয়ে রিক্তা তার বাবা ও স্বজনদের নিয়ে আবারও রজব আলীর বাড়িতে আসেন। এ সময় পুলিশের সামনেই রজব আলী ও তার স্ত্রী রাহিমা আক্তার এবং মেয়ে সালমা আক্তারকে মারধর করে জোরপূর্বক ঘরের মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পুলিশ উল্টো রজব আলীকেই আটক করে টেনেহিঁচড়ে আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান।

রজব আলী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাকে হাজতখানায় ঢোকায়। পরে আবার একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। আমাকে ছাড়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই হাসান। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ইউপি সদস্য নাসির সাত হাজার টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। সকালে আমি গিয়ে হাসানকে আরও দুই হাজার টাকা তাকে দিয়ে আসি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বর্তমানে রজব আলী, স্ত্রী রাহিমা আক্তার এবং মেয়ে সালমা আক্তার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইউপি সদস্য নাসির মিয়া বলেন, রজব আলীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি ও ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুব রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যাই। রজব আলী পুলিশকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন এসআই হাসান। পরে তাকে ছাড়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। রাতেই আমি সাত হাজার টাকা দেই এসআই হাসানকে। পরে সকালে রজব আলী নিজে গিয়ে আরও দুই হাজার টাকা দিয়ে আসেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আউলিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবুল হাসান বলেন, টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা রজব আলীকে ছাড়ার অভিযোগ সত্য নয়। রজব আলীর পুত্রবধূ রিক্তার অভিযোগে পুলিশ রিক্তা ও তার বাবার সঙ্গে ওই বাড়িতে গেলে রজব আলীর স্ত্রী ও মেয়ে ডাকাত-ডাকাত বলে বাড়ির গেট লাগিয়ে পুলিশকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ঘটনা জানার জন্য রজব আলীকে নিয়ে আসি। তার কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে ইউপি সদস্যকে ডেকে ছেড়ে দেই।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা রজব আলীকে হেনস্তা করার ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তারা মিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন পাহাড়পুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফুল মিয়া। পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে এ ঘটনার প্রতিকার চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: পুলিশ
বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে দিল্লি-দ্বিতীয় লাহোর, ঢাকা কত?
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭৫ স্কুল সংস্কার করেছে ইরান
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ড্রোন কীভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ধারণা বদলে দিয়েছে
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
২০ মিনিট ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা, অতঃপর...
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির নবীন শিক্ষার্থীদের বিশেষ মাইগ্রেশন শুরু, সুখবর পাচ্ছে…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
‘বেডটাইম স্ট্যাকিং’ ঘুমের জন্য ভালো না খারাপ?
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬