হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১২ PM
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম © টিডিসি সম্পাদিত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এ আদেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আসামি দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রধান আসামির বিদেশ গমন রহিত করা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

এরপর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এ ঘটনায় ডিএমপির পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলার নম্বর ১৯, তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং মামলায় পেনাল কোডের ১২০বি, ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংকে ১২৭ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেল সিআইডি

প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৬ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে র‍্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলোচিত এই হত্যাচেষ্টা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. হুমায়ুন কবির (৭০), পিতা মৃত দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং মোসা. হাসি বেগম (৬০), স্বামী মো. হুমায়ুন কবির। তাদের উভয়ের স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার কিশবপুর এলাকায় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে শুটার ফয়সাল তৃতীয়। শুটার ফয়সাল নিয়মিতভাবে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সাততলা বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে তিনি ওই বাসার চিপা দিয়ে একটি কালো ব্যাগ ফেলে দেন। এরপর আবার নিজের ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে সেই ব্যাগটি নিয়ে আসেন।

র‍্যাব জানায়, ওই সময় শুটার ফয়সাল তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অন্য মোবাইল ফোনটি তার মা মোসা. হাসি বেগমের হাতে তুলে দেন। এরপর তিনি সেখানে বাবা-মার সঙ্গে দেখা করেন।

কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি, রাতে সীমিত পরিসরে ইন্টারনে…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়ছেন রাষ্ট্রপতি?
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
ইরান এখন ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে চলবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরা…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সংবিধান কী বলছে?
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
ফিফার এক কথা, আইএফএফএইচএস আরেক—বিশ্বকাপের সেরা হিসেবে মেসির…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় থাকবে কয়দিন, জানালেন মাউশি ডিজি
  • ২৩ জুলাই ২০২৬