মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী ঘটেছিল সেদিন?

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০০ PM , আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৬ PM
গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি

গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি © সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ও তাঁদের জবানবন্দিতে মূল ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। চুরির সন্দেহ, কথাকাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির জেরেই ঘটে যায় নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশা ও তাঁর স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়ারচর গ্রাম থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যার পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। একই অভিযান থেকে তাঁর স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য কাজে লাগিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ‘ক্লুলেস’ হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।

চুরির অপবাদ থেকেই সংঘর্ষ

জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা পুলিশকে জানান, হত্যার আগের দিন বাসার কিছু টাকা ও মালামাল খোয়া যাওয়া নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ বিরক্ত ছিলেন। সেই বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন কাজে গেলে আবারও তাঁকে চোর অপবাদ দেওয়া হয়। গৃহকর্ত্রী তাঁকে তল্লাশি ও পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা বললে আয়েশা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হাতাহাতির একপর্যায়ে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসাকেও ছুরিকাঘাত করেন। পরে বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালান আয়েশা। এরপর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বোরকা ছাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান, যাতে শনাক্ত না হতে হয়।

গ্রেপ্তারের পর আয়েশার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি বলেন, ‘ল্যাপটপ–মোবাইল চুরি করতে গিয়ে তার ম্যাডাম ধরে ফেলায় সে ছুরি মারে। যতক্ষণ ধইরা ছিল, ততক্ষণই ছুরি দিয়া মারছে। পরে মেয়ে আইলে তাকেও মারে।’

পুলিশ জানায়, আয়েশা হত্যার পর তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার পর তাঁদের দুজনেই ঝালকাঠিতে পালিয়ে যান।

বাসা থেকে নেওয়া দুটি ল্যাপটপের মধ্যে একটি বিক্রি করেছেন আয়েশা। আরেকটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। মোবাইল ফোনটি তিনি পানিতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন। বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। পুলিশ বলছে, আয়েশা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না—তা তদন্তে পরিষ্কার হবে।

গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সাততলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ (১৫) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গৃহকর্মী আয়েশা বোরকা পরে ভবনে ঢুকে কিছুক্ষণ পর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে ভবন ছাড়ছেন।

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কে বলেন, হত্যার পর থেকে একাধিক টিম নিয়ে সিসি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার মূল ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে আজ বেলা সারে ১২ টায় ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬টি, জামায়াত-এনসিপি ও স্বতন্ত্র…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ভাত রান্না করতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীকে ঝলসে দিলেন স্বামী
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
আবারো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন সাকিব
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের আরও এক শীর্ষ কর্মকর্তা…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করল সাংবাদিকরা
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬