ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতা তাহসান ও বাঁধন © সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল থেকে ১৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
জানা গেছে, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফার্মগেটসহ তেজগাঁও এলাকায় একাধিক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল ও বরিকুল ইসলাম বাঁধন। কিন্তু এই দুই নেতাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও এসব মিছিল থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিভাগভিত্তিক মিছিল করছে রাজধানীতে। তেজগাঁও এলাকায় খুলনা বিভাগের নেতাকর্মীরা মিছিল করে থাকেন। এই মিছিলে নেতৃত্বে দেওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধনের বাড়ি কুষ্টিয়ায় এবং আরেক সহসভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তারা দুজনই এর আগে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম হল) হলের সভাপতি ছিলেন। ফার্মগেটে ও আসাদগেটে তাদের নেতৃত্বে একাধিক ঝটিকা মিছিল করা হয়েছে।
.jpg)
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতা তাহসান ও বাঁধন
ডিএমপি পুুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়াদের তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আসা আটক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর নেতৃত্ব দেওয়াদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনই হল সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল-শিবির ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরে জড়িত ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র এবং শিবির নেতা মো. নাজমুল বাশারকে ২০১৭ সালে রাতভর শারীরিক নির্যাতন করায় শাহবাগ থানায় বাঁধনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনের পর এসএম হল সংসদের প্রার্থী মো. ফরিদ হাসানকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন রাসেলের অনুসারীরা।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আলমগীর কবির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সব সময় সতর্ক রয়েছি। কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা গোষ্ঠী প্রকাশ্যে মিছিল বা সমাবেশের চেষ্টা করলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাই কেউ যদি এমন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, আমরা ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করছি। খুব শিগগির সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের টিম কাজ করবে।’
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু কারা লিড দিচ্ছে আমাদের জানা নেই। নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আসা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ রকম ঘটনায় লিড দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’