জিন তাড়ানোর কথা বলে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্বাসরোধে খুন, মসজিদের খাদেম গ্রেপ্তার

কুবি শিক্ষার্থী ও তার মায়ের হত্যারহস্য উদ্ঘাটন

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:০২ PM , আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৩ PM
 মা তাহমিনা বেগম ও মেয়ে কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন;  গ্রেপ্তারকৃত খাদেম মোবারক হোসেন

মা তাহমিনা বেগম ও মেয়ে কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন; গ্রেপ্তারকৃত খাদেম মোবারক হোসেন © সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগমের (৪৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। জিন তাড়ানোর জন্য ডেকে আনা স্থানীয় মসজিদের খাদেম তাদের হত্যা করেন। তিনি পাশাপাশি কবিরাজি করেন। ঘটনার একমাত্র অভিযুক্ত খাদেম মোবারক হোসেনকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোবারক হোসেন নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি নগরীর বাবুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম।  মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। 

পুলিশ সুপার জানান, নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিনের মা তাহমিনা বেগম নগরীর বাবুস সালাম জামে মসজিদের খতিব ইলিয়াস হুজুরের কাছে মাঝেমধ্যে ঝাঁড়ফুকের জন্য যেতেন। সেখানে পরিচয় হয় ওই মসজিদের খাদেম মোবারকের সাথে। মোবারক নিজেও কবিরাজি করেন বলে তাহমিনা বেগমকে নিশ্চিত করেন। সেই সূত্র ধরে গত একমাস ধরে তাহমিনা বেগমদের বাসায় যাতায়াত ছিল মোবারকের। গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তাহমিনা বেগম তার মেয়ের জিন তাড়ানোর জন্য কবিরাজ মোবারককে বাসায় ডাকেন। এ সময় মেয়ে সুমাইয়া আফরিনের কক্ষে জিন তাড়ানোর জন্য যান মোবারক। 

একপর্যায়ে কবিরাজ মোবারক সুমাইয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মা তাহমিনা বেগম টের পেয়ে তার মেয়েকে বাঁচাতে যান। এ সময় মোবারক সুমাইয়াকে তার কক্ষে আটকে রেখে সুমাইয়ার মা তাহমিনাকে তার কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়া আফরিনের কক্ষে গিয়ে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাদের বাসায় থাকা চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান। 

পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুরোদমে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে মূলহোতা মোবারককে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যাওয়া কবিরাজ মোবারক সোমবার রাতে ট্রেনে করে ঢাকায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নগরীর ধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড দুটি একজনই সংগঠিত করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। আর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারকৃত মোবারককে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। 

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা এবং মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৪৫) এবং তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩)। এ ঘটনায় নিহত তাহমিনার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ–কালের মধ্যেই গেজেট, ঢাকা-৮ আসনে পুনর্গণনার সুযোগ নেই: ইসি
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে রেজাল্ট টেম্পারিংয়ের অ…
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ স্বেচ্ছাসে…
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারা দেশে বিরোধী দলীয় সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ শিবিরের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোট কারচুপির অভিযোগ তুললেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!