কক্সবাজারের মহেশখালীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষক সোলাইমানের মৃত্যুদণ্ড

২৬ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩৮ PM , আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৫ PM
মো. সোলাইমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত

মো. সোলাইমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত © টিডিসি ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে মাহিয়া নামের সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ের মো. সোলাইমান (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অপহরণ, মৃতদেহ গুমের দায়ে দুইধাপে যাবজ্জামান কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক সোলাইমান উখিয়ার উপজেলার পালংখালী চাকমারকুল এলাকার সৈয়দ করিমের পুত্র।

আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. ওসমান গণি এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন টিটু। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সোলাইমান মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ নেয়। এরপর বিয়ে করে ওই বছরের অক্টোবর সে মাহিয়ার চাচার বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিল। এক পর্যায়ে ৩০ নভেম্বর মাহিয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর খেলতে বের হয়। এ সময় বাড়িতে স্ত্রী না থাকার সুযোগে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে অপহরণ করে ভাড়া বাসায় নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোলাইমান।

এতে মাহিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়লে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাগেজের ভেতর ঢুকিয়ে রাতের অন্ধকারে অটোরিকশায় করে পার্শ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া এলাকায় লবণমাঠে ফেলে দেয়। এরপরদিনই পুলিশ সোলাইমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেন।

আরও পড়ুন: শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বুয়েট শিক্ষার্থীদের

কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন টিটু জানান, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাইরার ডেইল এলাকার আয়াত উল্লাহর মেয়ে ও দক্ষিণ সাইরার ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়াকে অপহরণের পর ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর মরদেহ পেকুয়ার উজানটিয়ার কররিয়ারদিয়ার লবণ মাঠে ফেলে দেন উখিয়ার উপজেলার পালংখালী চাকমারকুল এলাকার সৈয়দ করিমের পুত্র মো. সোলাইমান।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ে হত্যা, অপহরণ, মৃতদেহ গুমসহ আরো একটি ধারায় মৃত্যুদণ্ড, দুইধাপে যাবজ্জীবন ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তিনি বলেন, সোলাইমান আগে টকনাফে তার বিবাহিত স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করতে হত্যা করে। এই ঘটনার পর পলাতক অবস্থায় শিশু মাহিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এই ঘটনাও আমলে রেখে বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘সোলাইমান একজন সিরিয়ার কিলার হিসেবে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছিল। তাকে এই মুহূর্তে না থামালে এরকম ঘটনা ঘটাতে থাকবে।’

রায় ঘোষণাকালে একমাত্র আসামি মোঃ সোলাইমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই রায়ে শিশুর মাহিয়ার পিতা আয়াত, আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে আসামপিক্ষ জানিয়েছে তারা ন্যায় বিচার পায়নি। তাই উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মিরসরাইয়ে অগ্নি দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসুত্র, গবেষণা যা বলছে 
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশের ইউএনওদের মীর শাহে আলমের সতর্কবার্তা
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমেদের সমন্বয় ছাড়া ৩৬ দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই ভর্তি কার্যক্রম শুর…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রতি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে: ক্রীড়া প্রত…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬